ছাত্রীরা ক্লাসে ‘শর্টস’ পরে এলে অধ্যাপকদের মনোযোগ নষ্ট হয় এবং তাঁদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়, তামিলনাড়ু ন্যাশনাল ল’ ইউনিভার্সিটির (টিএনএনএলইউ) উপাচার্য ভি নাগরাজের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দানা বাঁধল তীব্র বিতর্ক। উপাচার্যের এই বয়ান ঘিরেই শনিবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে শুরু হয়েছে পড়ুয়াদের বিক্ষোভ। ছাত্রীদের দাবি, উপাচার্য তাঁর মন্তব্যের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে যৌন হেনস্থাকেই বৈধতা দিতে চাইছেন। অবিলম্বে তাঁকে ক্ষমা চাইতে হবে এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে বলে সরব হয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার। ওই দিন ক্লাসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে উপাচার্য নাগরাজ ছাত্রীদের পোশাক বিধি নিয়ে সরব হন। সূত্রের খবর, বৈঠকে তিনি সাফ জানান যে, ছাত্রীদের শর্টস পোশাক শিক্ষকদের বিভ্রান্ত করে এবং এর ফলেই যৌন হেনস্থার মতো ঘটনা ঘটে। যদিও বিতর্কের মুখে উপাচার্যের সাফাই, তিনি পড়ুয়াদের ‘পিতার মতো’ আগলে রাখতেই এই পরামর্শ দিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।

তবে এই যুক্তিতে চিঁড়ে ভেজেনি। শনিবার সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ভিড় জমতে থাকে। উপাচার্যের মন্তব্যের প্রতিবাদে বহু ছাত্রী ‘শর্টস’ পরেই বিক্ষোভ মিছিলে সামিল হন। তাঁদের হাতে ধরা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল— ‘পোশাক নয়, মানসিকতা বদলান’। বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের অভিযোগ, একজন উপাচার্য পদের ব্যক্তিত্ব যখন যৌন হেনস্থার দায় পোশাকের ওপর চাপান, তখন তা অত্যন্ত বিপজ্জনক নজির তৈরি করে।

উল্লেখ্য, এই প্রথম নয়, ২০১৬ সালেও বেঙ্গালুরুর ন্যাশনাল ল’ স্কুলেও শিক্ষকতা করার সময় পোশাক নিয়ে প্রায় একই মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন নাগরাজ। তিন দশকের বেশি সময় ধরে শিক্ষকতার পেশায় থাকা নাগরাজ ওড়িশার ন্যাশনাল ল’ ইউনিভার্সিটি এবং ধর্মশাস্ত্র ন্যাশনাল ল’ ইউনিভার্সিটির উপাচার্যের দায়িত্বও সামলেছেন। স্বনামধন্য এই গবেষক ভ্যান্ডার বিল্ট বা ওয়ারউইকের মতো বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করলেও তাঁর এই ‘রক্ষণশীল’ মানসিকতা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে দক্ষিণ ভারতের শিক্ষামহলে।

আরও পড়ুন – রাজ্যে ফের বিপুল অর্থ উদ্ধার, দুর্গাপুরে ৫০ লক্ষ নিয়ে ধৃত বিহারের দুই যুবক

_

_

_
_
_
_
