সংশোধনীর নামে ডিলিমিটেশন বিল পাশ করানোর ছক ভেস্তে যাওয়ায় গোঁসা মোদির

মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিলের আড়ালে ডিলিমিটেশন বিল পাশ করানোর ছক কষে ছিল কেন্দ্রীয় সরকার। শুকক্রবার লোকসভায় I.N.D.I.A. ঐক্যবদ্ধ শক্তির কাছে হেরে গিয়ে এখন বিরোধীদের উপর বেজায় গোঁসা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার নাম করে তৃণমূল, কংগ্রেস-সহ অন্যান্য বিরোধীদের ঘাড়ে দায় ঠেললেন তিনি। প্রায় তিন বছর আগে পাশ হয়ে যাওয়া একটি বিল আইনের পরিণত হওয়ার পরেও গেজেট নোটিফিকেশন করে সেটিকে আটকে রেখে ফের সংশোধনীর নাম দিয়ে অন্য বিল পাশ করার মোদি সরকারের ষড়যন্ত্র রুখে দেয় বিরোধীরা। তাতে অগ্রণী ভূমিকা নয় তৃণমূল ও কংগ্রেস। ফলে তাদের উপর বেজায় চটেছেন নরেন্দ্র মোদি।
Sponsored

আড়ালে ডিলিমিটেশন, আর সামনে পাশ হয়ে যাওয়া মহিলা সংরক্ষণ বিল- সংশোধনীর নাম দিয়ে সেটাই পাশ করার চিত্রনাট্য সাজিয়েছিল মোদি সরকার। কিন্তু সেটা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় রুখে দেয় বিরোধীরা। শনিবার রাতে দেশের সামনে প্রধানমন্ত্রী যে মিথ্যার ঝুলঝুরি ছোটালেন, তাতে পরিষ্কার হচ্ছে কতখানি ঠুনকো রাজনীতির উপর বিজেপি দলটা চলছে। মোদি বলেন, “নারীশক্তির বিরোধিতার পাপ থেকে মুক্তি পাবে না বিরোধীরা। কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টির মতো দলকে সেটার শাস্তি পেতেই হবে।” কেন্দ্রের ষড়যন্ত্র ধরে ফেলে সেটা ফাঁস করে দিয়েছিল তৃণমূল। সঙ্গে ছিল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টির মতো দলগুলি। সেই কারণে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে নাম করে করে কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টির নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, “গণতন্ত্রের কাছে লজ্জা। নারীর সমর্থনে বিল পেশ করা হল। কংগ্রেস, ডিএমকে, তৃণমূলের মতো দলগুলি এর বিরোধিতা করল। এই বিল কেবল প্রস্তাব ছিল না, এই বিল ছিল নারীর আত্মসম্মানের প্রশ্ন।”
Sponsored

কিন্তু প্রশ্ন হল, ২০২৩-এর ২০ সেপ্টেম্বর ৪৫৪-২ ভোটে মহিলা বিল পাশ হয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ দেড় বছর কেন ফেলে রেখে কেন ২০২৬-এর ১৬ এপ্রিল অধিক রাতে নোটিফিকেশন করা হল? ১২ বছর ক্ষমতায়। প্রথম দু’বার সংখ্যা গরিষ্ঠতা পাওয়া সত্ত্বেও কেন বিল পাশ করানো হয়নি? মহিলাদের সংরক্ষণের জন্য যদি মোদি সরকার এতটাই চিন্তিত তাহলে লোকসভায় বিজেপির মহিলা সাংসদ সংখ্যার হার ১২.৯ শতাংশ কেন? যে তৃণমূলকে নিশানা করছেন মোদি, সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের লোকসভায় সাংসদ সংখ্যার হার ৩৭.৯ শতাংশ।
Sponsored

কেন্দ্রীয় সরকার আগেই বুঝতে পেরেছিল এই সংবিধান সংশোধনী বিল তারা পাশ করতে পারবে না। সেই কারণেই আগের মহিলা সংরক্ষণ বিলটি তড়িঘড়ি ভোটাভুটির আগেই মাঝরাতে আইন করে নোটিফিকেশন জারি করে দেয়। এখন দেশের সামনে কুম্ভিরাশ্রু বিসর্জন করছেন মোদি।
Sponsored

বাংলার বিধানসভা ভোটে রাষ্ট্রীয় শক্তিকে বেপরোয়া এবং খুল্লামখুল্লা কাজে লাগাচ্ছে মোদি সরকার। কমিশন, বাহিনী, ইডি, সিবিআই, আইটি, এনআইএ-কে কাজে লাগানোর পর বাংলা এবং তামিলনাড়ুর ভোটের ঠিক আগে মহিলা বিল পাশ করানোর নাটক করেন মোদি-শাহ। আর সেটা না হওয়ার পরেই বিরোধীদের উপর দায় চাপিয়ে সাফাই দিতে বসেন মোদি।
Sponsored

Sponsored

_
_
_
_
_
Related Articles

ককরোচদের উপর লাঠিচার্জের প্রতিবাদ করে আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা-অখিলেশ! মোদির বাসভবনের সামনে উত্তেজনা
8h ago

‘নেতা-মন্ত্রীরা নিজেদের ভগবান মনে করছেন? ছাত্র-বিক্ষোভে লাঠিচার্জে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন অরিজিৎ
8h ago

ককরোচদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ! জবাব চাইতেই মোদির বাড়ির সামনে বিক্ষোভ রাহুল-প্রিয়াঙ্কাদের
9h ago

ওয়াংচুকের চিকিৎসায় হাসপাতাল বদলের অনুমতি আদালতের
12h ago

আজ কোথায় কত দাম পেট্রোল-ডিজেলের? দেখে নিন এক নজরে
12h ago

পাশে নেই কর্মী-সমর্থকরা, দিল্লিতে কোনওমতে একুশে জুলাই পালন সুদীপ-কাকলিদের
13h ago





