কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাজধানীতে তীব্র হচ্ছে আন্দোলন, হাসপাতালেই অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। পরিবেশ বিজ্ঞানীর শারীরিক অবস্থার গুরুত্ব বুঝে এবার তাঁর পছন্দের হাসপাতালে স্থানান্তরকরণের অনুমতি দিল দিল্লি হাইকোর্ট (Delhi High Court)। কেন্দ্রের তরফ থেকে এ নিয়ে কোনও আপত্তি করা হয়নি বলেই খবর। যন্তর মন্তরের অনশন মঞ্চ থেকে জোর করে সমাজকর্মীকে তুলে নিয়ে গিয়ে সফদরজং হাসপাতালে (Safdarjung Hospital) ভর্তি করেছিল দিল্লি পুলিশ (Delhi police)। কিন্তু তারপরেও সোনম অনশন ভাঙেননি। তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলির অভিযোগ ছিল হাসপাতাল তথ্য গোপন করছে। মেদান্ত হাসপাতালে (Medanta Hospital) স্থানান্তর করার জন্য আবেদন জানানো হয়েছিল আদালতে। অবশেষে সাড়া মিলল।

প্রশ্ন ফাঁস থেকে শুরু করে শিক্ষা দুর্নীতির প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) পদত্যাগের দাবিতে টানা চব্বিশ দিন অনশন করছেন সোনম। তাঁর সাথে আলোচনায় না বসে প্রশাসনের তরফে বলপ্রয়োগ করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রবিবার দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে সোনমের স্ত্রী জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তথ্য গোপন করছেন। তাই তাদের উপর তাঁর ভরসা নেই। যদিও সেদিন পরিবেশ বিজ্ঞানীকে অন্যত্র স্থানান্তরিত করা হবে কিনা তা নিয়ে আদালত কিছু জানাইনি। মঙ্গলবার এই মামলার শুনানিতে, সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা (Tushar Mehta) জানান, সোনমকে মেদান্ত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সরকারের কোনও আপত্তি নেই। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ অমান্য করে তাঁকে যেন হাসপাতাল থেকে ছাড়া না-হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এরপরই আদালতের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়, মেদান্ত হাসপাতালে স্থানান্তর করে সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি প্যানেল গঠন করে ওয়াংচুকের চিকিৎসা হবে। সফদরজং হাসপাতালে এত দিন যে চিকিৎসা হয়েছে, তার সমস্ত নথি, রিপোর্ট এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য মেদান্ত হাসপাতালে পাঠাতে হবে। অনুসনের কারণে শরীর ভেঙে গেলেও, মনোবল এখনও অটুট রয়েছে বলে এদিন জানিয়েছেন গীতাঞ্জলি। হাসপাতাল থেকেই 'দ্বিতীয় স্বাধীনতার সংগ্রাম'কে সফল করার বার্তা দিয়েছেন সমাজকর্মী।