জেন-জি'রা দেখিয়ে দিয়েছে গণ আন্দোলনই পারে পরিবর্তন আনতে।  সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে তৃণমূল সংসদ মহুয়া মৈত্র দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে জোর সওয়াল করেছেন। শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে বলেছেন, এই আন্দোলন দেখিয়ে দিয়েছে যে শান্তিপূর্ণ গণ-আন্দোলনের মাধ্যমেও পরিবর্তন আনা সম্ভব। দেশের যুবসমাজ তাদের অহিংস প্রতিবাদের মাধ্যমে বর্বর সরকারের মুখোশ খুলে দিতে পারে। বেপরোয়া সরকারকে মাথা নোয়াতে বাধ্য করতে পারে।

মহুয়া মৈত্র নাটকীয় ভঙ্গিতে বিখ্যাত ডায়লগ দিয়ে একটি ভিডিও করেছেন। ভিডিও-র শুরুতেই তিনি বলেন, কিতনা আদমি থে! অমিত শাহ নিশ্চয়ই দিল্লি পুলিশ কমিশনারকে এখন এই প্রশ্নটিই করছেন। ছাত্র-যুবরা আজ তাদের তাদের নতজানু হতে বাধ্য করেছেন। আন্দোলনকারীরা প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, তাদের কোনও নেতার প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র অহিংস গণবিক্ষোভের মাধ্যমেই সরকারকে তারা জবাবদিহিতায় বাধ্য করতে পারেন। শিক্ষামন্ত্রী কেন পদত্যাগ করছেন না প্রশ্ন ফাঁসের দুর্নীতি ও পরীক্ষায় নানা অনিয়মের পরও, সেই দাবি সরকারের দুয়ারে পৌঁছে দিতে পারেন। এই ছাত্র-বিক্ষোভ প্রমাণ করে দিয়েছে, কেন্দ্রের সরকারের সীমাহীন বর্বরতাই তাদের শেষ পরিণতি হবে।

যন্তর-মন্তরে আন্দোলনকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে মহুয়া বলেন, এই দিনটি প্রতিবাদ আন্দোলনের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। দিল্লি পুলিশের বর্বরোচিত পদক্ষেপ সত্ত্বেও যারা আন্দোলন থেকে কিছু হটেনি মহুয়া তাঁদের প্রশংসা করেছেন। যাঁরা লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস সহ্য করে বিক্ষোভ চালিয়ে গিয়েছেন, তাঁদের তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন। মহুয়ার আরও সংযোজন, বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে বলেছিল, মারো, মারো, হাম আপকে হি বাচ্চে হ্যায়। অর্থাৎ আমাদের মারো, আমরা তোমাদেরই সন্তান। তাঁদের এই সাহস সারা দেশের অনুপ্রাণিত করেছে। বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের বাড়াবাড়িতেও
যে সমস্ত সাধারণ মানুষ প্রতিবাদস্থলে ছিলেন তাঁদেরও ধন্যবাদ জানান মহুয়া। পুলিশের বর্বরতার দৃশ্য গদি মিডিয়া দেখায়নি। কিন্তু এমন অনেক ভিডিও রয়েছে যেখানে পুলিশ সদস্যদের বিক্ষোভকারীদের দিকে পাথর ছুঁড়তে দেখা গিয়েছে। পুলিশকে বলতে শোনা গিয়েছে, মারো মার দো। গালিগালাজপূর্ণ অডিও শোনা গিয়েছে।

মহুয়ার কথায়, এটি ছিল একটি নেতৃত্বহীন আন্দোলন। এটি সোনম ওয়াংচুক, অভিজিৎ দীপকে বা কোনো রাজনৈতিক নেতার নেতৃত্বে ছিল না। বরং এটি ছিল একটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ। শিক্ষা ব্যবস্থায় কথিত অনিয়মের জন্য সরকারের কাছে জবাবদিহিতা চেয়ে জনগণের ক্ষোভের এক স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ। তিনি মনে করেন, সরকারের জবাবদিহিতা না পাওয়া পর্যন্ত, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া উচিত। যুবকদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি। যুব সমাজকে তাঁদের গতি না হারানোর আহ্বান জানান।


তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো একা এই ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে না। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের মাধ্যমে এই বিষয়টিকে বাঁচিয়ে রাখার ক্ষমতা ছাত্র ও যুবকদের হাতেই রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আপনাদের পক্ষে অহিংসা আছে। আপনাদের পক্ষে সত্য আছে। আজ হোক বা কাল, এই সরকারকে আপনাদের কথা শুনতেই হবে। যে সরকার মনে করে তারা হরদীপ পুরী (এপস্টাইন ফাইলস) বা ধর্মেন্দ্র প্রধানকে নিয়ে পার পেয়ে যাবে, কিন্তু তারা পার পাবেন না।