মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিলের নামে শুক্রবার সংসদে ডিলিমিটেশন বিল পাশ করানোর ছক কষে ছিল মোদি সরকার। I.N.D.I.A. ঐক্যবদ্ধ শক্তির কাছে হেরে বিরোধীদের নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। শনিবার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার নাম করে তৃণমূল (TMC), কংগ্রেস-সহ অন্যান্য বিরোধীদের ঘাড়ে দায় ঠেলেন। এর প্রতিবাদে মোদির মিথ্যের মুখোশ টেনে খুলে দিলেন তৃণমূলের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রবিবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে (X-Handle) পোস্ট করে, মোদির ভাষণ বিভ্রান্তিকর বলে তোপ দাগেন তিনি। ‘কাপুরুষাচিত’ আচরণের প্রতিবাদ করে তৃণমূল সুপ্রিমো লেখেন, “এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে প্রধানমন্ত্রী সৎ ভাবে বিষয়টির সমাধান করার পরিবর্তে জাতিকে বিভ্রান্ত করার পথ বেছে নিয়েছেন।”

এরপরেই নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে নিজের দলের অবস্থান স্পষ্ট করে তৃণমূল সভানেত্রী (Mamata Banerjee) লেখেন, “আমি এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে চাই, তৃণমূল কংগ্রেস বরাবরই নারীদের উচ্চতর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। সংসদ এবং রাজ্য বিধানসভা উভয় ক্ষেত্রেই আমাদের নির্বাচিত মহিলা প্রতিনিধিদের অনুপাত সর্বোচ্চ। লোকসভায় আমাদের নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে ৩৭.৯% মহিলা। রাজ্যসভায় আমরা ৪৬% মহিলা সদস্যকে মনোনীত করেছি। নারী সংরক্ষণের বিরোধিতা করার প্রশ্নই ওঠে না, এবং কখনও ওঠেওনি।”
এরপরই মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিলের আড়ালে ডিলিমিটেশন বিল (Delimitation Bill) পাশ করানোর মোদি সরকারের চক্রান্ত ফাঁস করে দেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, “আমরা মৌলিকভাবে যেটির বিরোধিতা করছি তা হল সেই ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া, যা মোদি সরকার তাদের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য মহিলাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কার্যকর করার ষড়যন্ত্র করছিল। আমরা মৌলিকভাবে যেটির বিরোধিতা করছি তা হল, বাবাসাহেব আম্বেদকরের সংবিধানের পরিবর্তন, দেশের বিভাজন এবং অন্যান্য রাজ্যের বিনিময়ে বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিকে বেশি প্রতিনিধিত্ব পাইয়ে দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক সীমানা পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমে ক্ষমতার জবরদখল। এটি যুক্তরাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের উপর একটি আঘাত। এবং আমরা এটা চুপচাপ হতে দেব না।”

কেন আইন হয়ে যাওয়ার পরেও মহিলা সংরক্ষণ বিল ফেলে রাখা হয়েছিল? মোক্ষম প্রশ্ন তোলেন মমতা। লেখেন, “এই সরকার যদি এই মহৎ উদ্দেশ্য সম্পর্কে সত্যিই আন্তরিক হত, তাহলে ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ হওয়ার পরে প্রায় তিন বছর অপেক্ষা করল কেন? যখন বেশ কয়েকটি রাজ্যে নির্বাচন চলছে, তখন কেন এটি নিয়ে তড়িঘড়ি করা হল? এর সঙ্গে সীমানা পুনর্নির্ধারণের বিষয়ই বা কেন যুক্ত করা হল?” এরপরেই বিজেপিকে কার্যত নারী বিরোধী আখ্যা দিয়ে তৃণমূল সভানেত্রী লেখেন, “তৃণমূল কয়েক দশক ধরে নারীদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমরা তা চালিয়ে যাব। কিন্তু এমন একটি বিষয়ে আমরা জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতা শুনব না, যা কেন্দ্রের শাসকদল বোঝেও না, সম্মানও করে না।”

It is deeply unfortunate that the Prime Minister chose to mislead the nation rather than address it honestly.
Let me put this on record. Trinamool Congress has always championed higher political representation for women. We have the highest proportion of female elected…
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) April 19, 2026
দিল্লিতে মোদি সরকারের মেয়াদ আর বেশিদিন নেই- জনসভা থেকে বারবার এই কথা বলেন মমতা। এদিন নিজের পোস্টেও সেই কথার উল্লেখ করে তৃণমূল সুপ্রিমো লেখেন, “আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পরেরবার যখন জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন, তখন সংসদের ফ্লোর থেকে তা করার সাহস দেখান, যেখানে আপনি চুলচেরা বিশ্লেষণ, প্রশ্ন এবং জবাবদিহির সম্মুখীন হবেন। গতকাল আপনি যা করেছেন তা ছিল কাপুরুষোচিত, ভণ্ডামিপূর্ণ এবং দ্বিচারিতা। আপনি বুঝতে পারছেন ক্ষমতা আপনার হাত থেকে ফসকে যাচ্ছে। আর কিছু সময়ের জন্য আঁকড়ে ধরে রাখতে আপনি যেকোনও পর্যায়ে যেতে প্রস্তুত। কেবল এটুকুই ছিল।”

রবিবার সকালে টুইটের পর দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে তারকেশ্বরের জনসভা থেকেও এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করেন মমতা। তাঁর কথায়, সরকারি মাধ্যমকে ব্যবহার করে দলের প্রচার করছেন মোদি। তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, “গত পরশু দিন দেখেছেন মোদিবাবু হেরেছেন লোকসভায়। পতন শুরু হয়েছে গেছে। মাইনরিটি সরকার নিয়ে এত বড় ঔদ্ধত্য, অহংকার। গতকাল গর্ভনমেন্টের মেশিনারি দিয়ে, দূরদর্শনকে দিয়ে মোদী দর্শন বানিয়ে পলিটিক্যাল ক্যাম্পেন করেছে। আমরা কমপ্লেন করব। এবং ধিক্কারও জানাই।”

এরপরে তৃণমূল সভানেত্রী জনসভা থেকে ফের প্রশ্ন তোলেন, “এক বিল ক’বার পাশ হয়? মহিলা বিলের সাথে তোমরা ডিলিমিটেশন জুড়ে দিয়েছ। মহিলা বিলের সঙ্গে আমরা সম্পূর্ণ রূপে আছি। আমরা বলি না, করে দেখাই। তোমাদের পার্টিতে কত পার্সেন্ট আছে?”

তীব্র কটাক্ষ করে মমতা বলেন, “ডিলিমিটেশন কেন আটকেছি? বেশ করব, হাজার বার করব। মহিলা বিল পাশ হয়ে গেছে। বলুন নোটিফিকেশন করতে। সামনে মহিলা, পেছনে ময়লা। আবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন! কত বড় নেতা!”
–
–
