রাত পোহালেই রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার মহারণ। ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ ঘিরে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হচ্ছে বুথগুলিকে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, এই দফায় প্রস্তুতির বহর ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নজিরবিহীন। পরিকাঠামো থেকে শুরু করে ভোটারদের সুযোগ-সুবিধা, সব ক্ষেত্রেই কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না কমিশন।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম দফায় মোট ৪৪ হাজার ৩৭৬টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র খোলা হচ্ছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৯৫৮টি অক্সিলিয়ারি বুথ। গ্রামাঞ্চলেই বুথের সংখ্যা বেশি, প্রায় ৩৫ হাজার ৯৩১টি। উল্টোদিকে শহরাঞ্চলে বুথের সংখ্যা ৫ হাজার ৪৮৭। এবারের নির্বাচনে নারীশক্তির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৫ হাজার ৬৪৪টি বুথ সম্পূর্ণভাবে মহিলারাই পরিচালনা করবেন। এ ছাড়াও মডেল বুথ থাকছে ২০৭টি। বিশেষ নজর কাড়ছে বালুরঘাট ও আসানসোল উত্তরের দু’টি বুথ, যা সম্পূর্ণভাবে পরিচালনা করবেন বিশেষভাবে সক্ষম কর্মীরা। নজরদারিতে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিটি বুথেই ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যাও চোখে পড়ার মতো। মোট ১ হাজার ৪৭৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে মহিলার সংখ্যা ১৬৭। সবচেয়ে বেশি প্রার্থীর ভিড় কোচবিহার দক্ষিণ, করণদীঘি ও ইটাহারে। সেখানে প্রতিটি কেন্দ্রে ১৫ জন করে প্রার্থী লড়ছেন। উল্টোদিকে চন্দ্রকোনা কেন্দ্রে লড়াইটা হবে মাত্র ৫ জনের মধ্যে।
ভোটার তালিকায় বিশেষ প্রাপ্তি প্রবীণদের উপস্থিতি। পরিসংখ্যান বলছে, ১০০ বছরের বেশি বয়সী ভোটারের সংখ্যা ৪ হাজার ২৫। ৮৫ ঊর্ধ্ব ভোটার রয়েছেন ২ লক্ষ ৪ হাজার ৬১৮ জন। এ ছাড়াও ২ লক্ষ ৫৩ হাজারের বেশি বিশেষভাবে সক্ষম ভোটার ভোট দেবেন এই দফায়।
ভৌগোলিক ও জনবিন্যাসের দিক থেকেও এই দফার আসনগুলিতে যথেষ্ট বৈচিত্র্য রয়েছে। শিলিগুড়ি যেমন আয়তনে সবচেয়ে ছোট কেন্দ্র, ঠিক তেমনই কালিম্পং সবচেয়ে বড়। আবার মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জ ভোটারের নিরিখে ছোট হলেও, পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরকে সামলাতে কমিশনকে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে, কারণ সেখানে ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ ৯৬ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে।
ভোটের আগে সব মিলিয়ে পরিকাঠামো ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে কড়া অবস্থান নিতে চাইছে কমিশন। নবান্ন থেকে জেলা প্রশাসন, সবার নজর এখন বৃহস্পতিবারের দিকে।
আরও পড়ুন- ন’বছর আগের লেখায় কেন কবি শ্রীজাতের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা!
_
_

_
_

