যত বেশি হারে ভোট, তত জোরালো প্রত্যাবর্তন। বাংলার মানুষ বিজেপির কোমর ভেঙে দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াই ও উন্নয়নের প্রতি পূর্ণ সমর্থন দিয়ে বিপুল ভোটে জয়ের দিকে এগিয়ে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার প্রথম পর্যায়ের ভোটের শেষে তৃণমূলের এই আত্মবিশ্বাসী জোরালো প্রতিক্রিয়া।

বৃহস্পতিবার ভোট গ্রহণ পর্বের শেষে তৃণমূল ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দলের দুই প্রার্থী ব্রাত্য বসু ও কুণাল ঘোষ। তাঁদের সাফ কথা, প্রথম দফায় ১৫২টি আসনের মধ্যে প্রায় ১৩৫টি আসন পাবে তৃণমুল কংগ্রেস। কুণালের কথায়, বেশি ভোট পড়েছে বলে বিরোধীরা ভুল ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা করছে। আসলে বিষয়টি হল, এনুমারেশনের পর মৃত বা স্থানান্তরিত ভোট বাদ দিলে এই যে বিপুল ভোটের হার তা বিজেপির বঙ্গ-বিরোধী অবস্থানের ও বাংলার বিরুদ্ধে কমিশনের যুদ্ধ ঘোষণার ভোট। ওরা এখন যা বলছে তা কর্মীদের মনোবল টিকিয়ে রাখার জন্য বলছে। জোরের সঙ্গেই কুণাল জানিয়ে দেন, গতবারের থেকে ২০২৬-এ
১. তৃণমূলের ভোটের শতাংশ বাড়ছে
২. আসন বাড়ছে
৩. একাধিক আসনে ভোটের শতাংশ বাড়ছে
৪. নন্দীগ্রামে তৃণমূল জিতছে। এমনকী নন্দীগ্রাম ২-এ বিজেপি হাল ছেড়ে দিয়েছে। শুভেন্দু হারছে। পবিত্র কর জিতছে।
এ-প্রসঙ্গে কুণাল বলেন— মা-মাটি-মানুষকে দলের তরফে আন্তরিক ধন্যবাদ। এই জয়ের ধারা অব্যাহত থাকবে। কর্মীদের দায়িত্ব বাড়ল। ব্রাত্য বসু বলেন, যে পরিমাণ মহিলা ভোট দিতে বেরিয়েছেন, তাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের প্রতি তাঁদের অগাধ অস্থাকেই প্রমাণ করে। রাজ্য সরকাররের ১০৫টির বেশি প্রকল্প। তাতে আস্থা রেখেছে মানুষ।
ব্রাত্যের সংযোজন, প্রথম দফায় সরকার গড়ার লক্ষ্যে নিরঙ্কুশ এগোলাম। আমাদের কর্মীরা ঠান্ডা মাথায় ভোট করেছে। বিজেপি যেভাবে অপমান করেছে বাংলাদেশি বলে। আঘাত হেনেছে। তার বিরুদ্ধে ভোট হয়েছে। ৯১ লক্ষ মানুষকে বাদ দেওয়া হয়েছে। দেড় কোটি মানুষকে আতঙ্কিত করেছে। তা সুদে-আসলে চুকিয়ে দিয়েছে মানুষ। কুণাল বলেন, খাতায়-কলমে পরিসংখ্যান দেখলে হবে না। স্পিরিটটা দেখতে হবে। কমিশনের ভূমিকা সম্পর্কে ব্রাত্য বসু বলেন, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকে একটি দিনের নিরিখে বিচার করলে হবে না। তৃণমূলের প্রতি তাদের যে রাগ-ক্ষোভ বা মনোভাব— সেটা আমরা ভুলিনি। ওরা ওদের কাজ করেছে। সেনা আধাসেনা সাঁজোয়া গাড়ি নামিয়ে বিজেপি বাংলাকে ভয় পাওয়াতে গিয়েছিল। বাংলা ভয় পায়নি। বাংলা তার ঘরের মেয়েকেই চায়। স্পষ্ট কথা তৃণমূলের।

আরও পড়ুন- ‘আমি কি সন্ত্রাসবাদী?’ বাহিনীর তল্লাশিতে ক্ষুব্ধ বাইরন ভোট না দিয়েই ফিরলেন বুথ থেকে

_

_

_

_
_
_
_
