আমার মা-কে রক্ত দিয়ে বাঁচিয়েছিল: ফিরহাদের প্রচারে সম্প্রীতির উদাহরণ তুলে ধরলেন মমতা

Date:

Share post:

বাংলায় ধর্ম-জাত-পাতের ভেদাভেদ যে কোনও দিনও নেই বারেবারে তা প্রমাণিত হয়েছে। বাংলার শান্তিপ্রিয় মানুষ কীভাবে বিপদে একের অন্যের পাশে দাঁড়িয়েছে, ইতিহাস তার সাক্ষী। আবার খোদ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী নিজের মন্ত্রিসভায় কীভাবে সেই সম্প্রীতির (communal harmony) পরিবেশ তৈরি করেছেন, তার উদাহরণ শুক্রবার কলকাতা বন্দর (Kolkata Port) কেন্দ্রের প্রার্থী মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) প্রচারে স্পষ্ট করে দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে ‘রক্তের সম্পর্কে’র কথা তুলে ধরলেন।

শুক্রবার জেলা থেকে শহরে ম্যারাথন নির্বাচনী প্রচার সারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফিরহাদ হাকিমের সমর্থনে হরিসভা স্ট্রিট ক্রসিং থেকে কার্ল মার্কস সরণি পর্যন্ত পদযাত্রায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়। পদযাত্রা শেষে ফিরহাদের সমর্থনে ভূকৈলাস ময়দান জনসভাও করেন। আর সেই জনসভা থেকে বিজেপির পরাজয় নিশ্চিত করে জনতা উদ্দেশে ‘প্রিয় ববিকে’ ভোট দেওয়ার আবেদন জানান বাংলার তিনি।

আর সেখানেই স্মৃতিমেদুর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অতীতের না বলা স্মৃতি উসকে ফিরহাদকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন। তাঁর কথায়, ববি আমার মাকে রক্ত দিয়েছে! ও আমার পরিবারের সদস্য… ওর মা ব্রাহ্মণ, বাবা মুসলমান। ওর রক্তে হিন্দু আর মুসলমান। এমন দেখেছেন কখনও? এটাই ভারতবর্ষ!

এই বাংলা যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির রাখে, ফিরহাদকে নিয়ে স্মৃতিচারণে সেই উদাহরণ মমতার মুখে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সংযোজন, আমার মায়ের অপারেশনের সময় তিন বোতল রক্তের দরকার ছিল। ববি বলেছিল, দিদি চিন্তা কোরো না। ববির সঙ্গে মায়ের রক্তের গ্রুপ ম্যাচ করেছিল। ও প্রাণ বাঁচিয়েছিল! তারপর আমার মা যখন মারা গেলেন, তখনও অনেক কিছু সামলেছে ববি। আমি প্রথম ফোন ওকেই করি। কী করে ভুলব? তিনি এ-ও বলেন, মা মারা যাওয়ার সময় সবার আগে ওকে বলেছিলাম, আমাকে শ্মশানে যেতে হবে। দাহকার্য করতে হবে। কাকে আর বলব। প্রথমেই ববির নাম মনে পড়েছে। ওকে বলেছিলাম, তুই গিয়ে বন্দোবস্ত কর। আমার পরিবারেরও সকলে থাকবে।

আরও পড়ুন : মমতার পদযাত্রা ঘিরে জনজোয়ারে ভাসল রাজপথ, ফুল-মালায় বরণ জননেত্রীকে

এখানেই শেষ নয়, রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে আরও কীভাবে আত্মীয়তায় জুড়ে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তার উদাহরণ তুলে তিনি জানান, ব্রাহ্মণদের বাড়িতে পৈতে হলে দ্বিজজন্ম হয়। আমাদের ঘরের একটি ছেলে, নাম আবেশ। যখন পৈতে হয়, তখন মুখ দেখতে হয় আর এক বাবা-মায়ের। ববি আর রুবি, আবেশের মুখ দেখেছিল। আমি কখনও এসব কথা বলি না। আমি সকলের সঙ্গে থাকি। সকলকে নিয়ে চলতে ভালবাসি। গরিব হোক বা যে যে সম্প্রদায়ের হোন, সকলে আমার কাছে সমান। সংকীর্ণ রাজনীতি কখনও করিনি।

spot_img

Related articles

শহরের হাসপাতাল থেকে জল জমা সমস্যার সমাধান: ভবানীপুরে বার্তা মমতার

আগামী দুই বছরে শেষ হয়ে যাবে গঙ্গাসাগরের কাজ। শুক্রবার ভবানীপুর থেকে গঙ্গাসাগরের পরিষেবা নিয়ে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়...

লক্ষ্যমাত্রার পথে অনেকটাই এগোল নবান্ন, রাজ্যে সংগৃহীত ৪৮ লক্ষ টনের বেশি ধান

চলতি খরিফ মরসুমে ধান সংগ্রহে বড়সড় সাফল্যের মুখ দেখল রাজ্য সরকার। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, রাজ্যের ক্ষুদ্র...

ভোট শেষে স্বচ্ছতা রাখতে ক্যামেরার ছবি সংরক্ষণে এক গুচ্ছ নির্দেশিকা

নির্বাচন শেষে ইভিএম সিল করা নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক বুথে অভিযোগের তিরে নির্বাচন কমিশন। আবার ওয়েব কাস্টিং পদ্ধতির সুফলও...

যেখানে আশা করিনি সেখানেও জিতবে তৃণমূল, ভবানীপুরের সভা থেকে আত্মবিশ্বাসী নেত্রী

এবারের ভোট এসআইআরের অত্যাচারের বিরুদ্ধে। যেখানে আশা করিনি, সেখানেও জিতব। ভবানীপুরের সভা থেকে দৃঢ় কণ্ঠে জানালেন নেত্রী মমতা...