‘আমি খবর পেয়েছি ধনিয়াখালির বিভিন্ন জায়গায় টাকা বিলি করা হচ্ছে। অসীমা দি বলেছেন টাকা নেবেন না, কিন্তু আমি বলছি- টাকা যদি দিতে আসে, নিয়ে নেবেন”, এদিন ধনিয়াখালির জনসভা থেকে ফের একবার বিজেপিকে(BJP) তুলোধোনা করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের(TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়(Abhishek Banarjee)। সোমবার দলীয় প্রার্থী অসীমা পাত্রের সমর্থনে আয়োজিত এই সভায থেকে তিনি বলেন, ”অসীমা দি বলেছেন টাকা নেবেন না, কিন্তু আমি বলছি- টাকা যদি দিতে আসে, নিয়ে নেবেন। কোনও অভিমান করবেন না। কারণ এটা কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়, এটা বাংলার মানুষেরই টাকা। বিজেপি টাকা দিতে এলে দরদাম করবেন। যদি ৫০০ টাকা দিতে আসে ৫০০০ চাইবেন, ৫০০০ দিলে ১০০০০ চাইবেন। এদের সর্বস্বান্ত করবেন। পদ্মফুলের বহিরাগত নেতাদের থেকে টাকা নেবেন আর অসীমা পাত্রকে জোড়া ফুলে ভোট দেবেন।”

অভিষেক (Abhishek Banarjee) আরও বলেন, “এখানে আমার কাছে কিছু বিস্তারিত অভিযোগ ‘এক ডাকে অভিষেক’-এ কয়েকজন ফোন করে জানিয়েছেন। এক হচ্ছে, গুড়াপে কয়েকটা কারখানা আছে। সেখান থেকে দূষিত জল ঘিয়া নদীতে পড়ছে। যার কারণে গুড়াপ, কংসাইপুর থেকে শুরু করে অন্তত ৬০টা গ্রামের মানুষ বিপদে রয়েছেন। অনেক বছর ধরে। মানুষ বহুবার অভিযোগ জানিয়েছেন। এটা অসীমাদিও আমাকে বলেছেন। সরকারের তরফ থেকে পরিদর্শন করা হয়েছে। কিন্তু, এখনও পর্যন্ত সেরকম সুরাহা হয়নি। চাষি ভাইয়েরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আজকের এই সভা থেকে যারা সেখানে কারখানা চালাচ্ছেন, আমি কারখানার মালিরদের অনুরোধ কবর, এটা দায়িত্ব নিয়ে আপনারা দেখবেন। আর যদি আগামী একমাসের মধ্যে সুরাহা না হয়, তাহলে রাজ্য সরকার চতুর্থবার তৈরি হওয়ার পর কারখানার মালিকদের বিরুদ্ধে রাজ্য প্রশাসন কিন্তু ব্যবস্থা নেবে। মানুষের অসুবিধা হয়, এমন কাজ যদি কেউ করেন আর ভাবেন পার পেয়ে পেয়ে যাব। দেখুন আমার কানে যখন এসে পৌঁছেছে আপনারা নিশ্চিন্তে থাকবেন, এর ব্যবস্থা আমরা করব।”
এদিন অসমের বিজেপি নেতাদের প্রসঙ্গে সুর চড়িয়ে তিনি বলেন,“যাঁরা আমাদের বাংলাদেশি বলে নোটিশ পাঠায়, সেই অসমের বিজেপি নেতারা এখানে টাকা ছড়াতে আসছে। এদের যোগ্য জবাব দিতে হবে। দেশের মন্ত্রী যদি ভাবে রিমোট কন্ট্রোল টিপে ধনিয়াখালির মানুষের টাকা বন্ধ করবো -মোদীর হাতে রিমোট কন্ট্রোল থাকলে, আগামী ঊনত্রিশ তারিখ আপনার হাতে ইভিএমের বোতাম থাকবে। আপনি রিমোট কন্ট্রোলের জবাব ইভিএমের বোতামের মাধ্যমে দেবেন।”

নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে মোদি সরকারকে তোপ দেগে অভিষেক বলেন, “একদিকে নরেন্দ্র মোদি আপনাকে সর্বস্বান্ত করে আপনাকে লুঠেপুটে নিয়েছেন। করের পর কর লাগিয়েছেন। চারশো টাকার রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার আজকে আপনাদের কিনতে হচ্ছে বাজার থেকে ১১০০ টাকায়। ব্ল্যাকে বিক্রি হচ্ছে দু’-হাজার, আড়াই হাজার। দৈনন্দিন জীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ঊর্ধ্বমুখী। মূল্যবৃদ্ধি, চা পাতা, শাক-সবজি, দুধ, রান্নার গ্যাস, তেল, পিঁয়াজ, ঢ্যাঁড়শ, জিরে, কেরোসিন তেল, ডিজেল, পেট্রোল। আপনি দেখুন, চারশো টাকার রান্নার গ্যাস এক হাজার। ৩৮ টাকার ডিজেল ৯০। ৫০ টাকার পেট্রোল ১০০। রেলের ৫ টাকার প্ল্যাটফর্ম টিকিট ৩০। কেরোসিন তেল ছিল ১৪ টাকা লিটার। আজকে ৪০ টাকা লিটার। আপনারা রান্নায় জিরে ব্যবহার করেন। জিরে ছিল ১৩০ টাকা কেজি। আজকে ৩৫০ টাকা কেজি।”

–

–

–

–
–
–
