নারী, শিশুর সুরক্ষা নিয়ে বাংলায় এসে নিজেদের রাজ্যের বড়াই করে বেড়িয়েছেন বিজেপি রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীরা। বাংলাকে নিচু দেখাতে বাংলার মা-বোনেদের নিয়ে অসম্মানের চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে যাওয়া বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীরা যে নিজেদের রাজ্য নারী ও শিশুদের বিন্দুমাত্র নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ, আবার প্রমাণ মিলল মহারাষ্ট্রে (Maharashtra)। পুনের ভোর (Bhor) এলাকায় মাত্র চার বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতন করে খুন (rape and murder) করে ফেলার ঘটনা ঘটল। এই অভিযোগে ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ (Maharashtra Police)। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই বিক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দারা। মূল অপরাধী গ্রেফতার হলেও শিশুদের নিরাপত্তার দাবিতে সোচ্চার হন এলাকার মানুষ।

গরমের ছুটিতে পুনের ভোর এলাকার নাসরাপুরে ঠাকুমার বাড়ি বেড়াতে এসেছিল ওই শিশুটি। শুক্রবার বিকালে স্থানীয় এক মন্দিরের সামনে খেলছিল। সেই সময়ই অভিযুক্ত বৃদ্ধ খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে গোয়ালঘরে নিয়ে যায় শিশুটিকে। সেইখানেই তার উপর অত্যাচার করে খুন করে ওই বৃদ্ধ। শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর বাড়ির লোকেরা খোঁজাখুঁজি শুরু করে। স্থানীয় একটি বাড়ির সিসিটিভিতে (CCTV) শিশুটির সঙ্গে ওই অভিযুক্তকে দেখা যায়। পরে ওই গোয়ালঘর থেকে শিশুটির দেহ উদ্ধার হয়। শিশুটিকে পাথর দিয়ে থেঁৎলে মারা হয়েছিল।
এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। শতাধিক গ্রামবাসী পুলিশ চৌকিতে গিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানান। শুধু তাই নয়, বিক্ষুব্ধ জনতা পুণে-সাতারা (Pune-Satara) তথা মুম্বই-বেঙ্গালুরু (Mumbai-Bengaluru) সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়, যার ফলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগেও অপরাধমূলক অভিযোগ ছিল। তারপরেও কোনও রকম সতর্কতা নেয়নি প্রশাসন। তার ফলেই এই জঘন্য অপরাধ ঘটানোর সাহস পায় ওই বৃদ্ধ। গোটা ঘটনার জন্য প্রশাসনিক (Maharashtra police) ব্যর্থতাকেই দায়ী করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

আরও পড়ুন : মৃত্যুতেও সন্তান আঁকড়ে মা! মধ্যপ্রদেশের নৌকাডুবির উদ্ধারকাজে চোখ ভিজল উদ্ধারকারীদের

চাপে পড়ে পুলিশ দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার (Arrest)করে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং পকসো আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে। এনসিপি (NCP) সাংসদ সুপ্রিয়া সুলেও (Supriya Sule) এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দোষীর কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। প্রশ্ন তুলেছেন, নারী ও শিশু সুরক্ষার কী কোনও মূল্য আছে? নাকি এই প্রতিশ্রুতি শুধুই রাজনৈতিক স্লোগান?

–

–

–
–
–
