বাংলার ক্ষমতা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস সরে যাওয়ার পরে বিভিন্ন স্তরে দায় ঠেলাঠেলি শুরু হয়েছিল। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় একজোট হওয়ার বার্তা দিলেও কিছু নেতৃত্বের কারণে ফের সংঘাতের আবহ। আর এবার অভিযোগ খোদ তৃণমূল সাংসদের (TMC MP) বিরুদ্ধে। নিচুতলার কর্মীদের ঘুরিয়ে ‘কুত্তা’ (dog) বলার অভিযোগ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। সাংসদের এই সম্বোধনের পরে ক্ষোভ অপ্রকাশিত থাকেনি কাউন্সিলর (councilor) মহলে। হোয়াটসঅ্য়াপ গ্রুপের (Whatsapp group) স্ক্রিনশট ছড়িয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন কাউন্সিলর।
ভোট পরবর্তী হিংসায় জেরবার গোটা রাজ্য। আবার কোথাও কোথাও আক্রান্ত তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারির ঘটনাও বন্ধ নেই। সেখানে বাদ নেই কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাও। এবার সেই কর্মীদের নিয়েই কলকাতার হোয়াটসঅ্য়াপ গ্রুপে বিবাদের সূত্রপাত। ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায় (Subrata Bandyopadhyay) দাবি করেন, এলাকার ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরানোর দাবি সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে করেন কাউন্সিলর। এলাকার অঘোষিত সম্রাট বলে সম্বোধন করেন সাংসদকে তিনি। এরপরই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত।

কাউন্সিলরের পাল্টা তৃণমূল নেত্রী সুনন্দা সরকার দাবি করেন, এলাকার বিধায়ককে ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরানোর কটাক্ষ করেন। তাতে কাউন্সিলর উত্তর দেন, স্থানীয় বিধায়ক নির্বাচনে পরাজিত। তিনি ইঙ্গিত করেন, বিধায়কের অনুপস্থিতিতে ঘর ছাড়া দলীয় কর্মীদের ঘরে ফেরানোর দায়িত্ব সাংসদেরই হওয়া উচিত। কার্যত দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে আক্রান্ত কর্মীদের পাশে দলের নেতৃত্বদের দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন সেই পথেই সাংসদের কাছে অনুরোধ করেন কাউন্সিলর।

তাতে সাংসদ সুদীপ (Sudip Bandyopadhyay) গ্রুপেই উত্তর দেন, এদেরকে একটাই উত্তর – হাতি চলে বাজার, কুত্তা (dog) ভোকে হাজার। জবাব দিও না। আর সাংসদের এই উক্তিতেই দলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের চ্যাট ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কাউন্সিলর স্পষ্ট বুঝিয়ে দেন অপমানিত হওয়ার জবাবও তিনি দিতে জানেন। নিজেকে হাতি বলে প্রতিষ্ঠা করা সাংসদ যে দলের কর্মী বা নেতৃত্বকে কুত্তা বলতে চেয়েছেন তার জবাব দিতেও ছাড়েননি তিনি। দাবি করেন, তিনিও দলের সৈনিক। এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁরই চেয়ারম্যান।

আরও পড়ুন : জ্বলল ৬০ দোকান! বিজেপির ভয় তাড়ানোর প্রতিশ্রুতিকে কটাক্ষ অভিষেকের

রাজ্যের পালাবদলের পরে বিভিন্ন তৃণমূল নেতা কর্মীদের প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে। সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্কেও দলবদলের সম্ভাবনা উঠে এসেছিল। তবে দলীয় কর্মীদের রক্ষা করতে বলায় সাংসদের যে প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে, তাতে তৃণমূল কংগ্রেস তো বটেই, বিস্মিত রাজনৈতিক মহল। এরপরেও দল সাংসদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয় কি না, এখন সেটাই লক্ষ্ণণীয়।

–

–
–
–

