রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে নবান্নের এই প্রথম বৈঠকে যোগ দেন শপথ নেওয়া রাজ্যের পাঁচ মন্ত্রী – দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh), অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul), নিশীথ প্রামাণিক, অশোক কীর্তনিয়া ও ক্ষুদিরাম টুডু। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রথম বৈঠকে ছয়টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikary) স্পষ্ট করে দেন, রাজ্যে চালু থাকা কোনও সামাজিক প্রকল্প (welfare scheme) বন্ধ করা হচ্ছে না।
প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের প্রথম সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলায় দীর্ঘ নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য নির্বাচন কমিশন, বাইরের রাজ্যের পর্যবেক্ষক, কেন্দ্রীয় বাহিনী, রাজ্য পুলিশ, কলকাতা পুলিশ, নির্বাচন কর্মী-আধিকারিক, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি ব্যক্তিকে ধন্যবাদ জানায় মন্ত্রিসভা। বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠা করতে যে ৩২১জন প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের সব দায়িত্ব রাজ্য সরকার নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে। প্রথম বৈঠকেই বিএসএফ-কে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরকে, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

রাজ্যের নির্বাচনে জয়ের পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেছিলেন প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাংলায় আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেই মতো বৈঠক শেষে স্বাস্থ্য দফতরকে এই প্রকল্প রাজ্য জুড়ে শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এছাড়াও যে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি বাংলায় চালু ছিল না সেগুলিকেও ছাড়পত্র দিল মন্ত্রিসভা। তার মধ্যে রয়েছে – পিএমশ্রী প্রকল্প, বিশ্বকর্মা প্রকল্প, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও প্রকল্প, উজালা যোজনা প্রভৃতি।

পরবর্তীতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে প্রথম বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, রাজ্যে চালু থাকা কোনও প্রকল্প (welfare scheme) বন্ধ করা হবে না। পেপারলেস অফিস যেমন হবে, তেমন সব পোর্টাল আপডেট হবে। স্বচ্ছতার সঙ্গে ৩০ বছর বা ১০ বছর আগে চালু হওয়া সব সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পই চালু থাকবে বলে জানালেন তিনি।

মন্ত্রিসভার বৈঠকের চতুর্থ সিদ্ধান্ত হিসাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, এবার থেকে অন্য রাজ্যের মতো রাজ্যের আধিকারিকরাও কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণে যাবেন। রাজ্য ক্যাডারের যে আইএএস (IAS) আধিকারিকরা রয়েছেন, তার পাশাপাশি রাজ্যের ডব্লুবিসিএস (WBCS) আধিকারিকরাও যাবেন প্রশিক্ষণে, এমনটাই সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার। এরই সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পঞ্চম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে রাজ্যের সর্বত্র লাগু হবে বিএনএস। অসাংবিধানিক আইপিসি ও সিআরপিসি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন : নবান্নের আগে দলীয় কার্যালয়: সোমবার সকাল থেকেই কর্মব্যস্ত রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী

অন্যদিকে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে রাজ্যে কর্ম সংস্থানের ঘোষণা করেছিলেন বিজেপি নেতৃত্ব। সেই ঘোষণাকে মাথায় রেখে নেওয়া হয়েছে ষষ্ঠ সিদ্ধান্ত। মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অনুমোদন অনুসারে রাজ্য সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বয়সের মেয়াদ ৫ বছর বাড়িয়ে দেওয়া হল। এতদিন যে নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত চাকরির আবেদন করা যেত, তা আরও পাঁচ বছর বেশি করা যাবে।
–
–

