মোহনবাগান এবং টুটু বোস (Tutu Bose), তিন দশকের বেশি সময়ে নাম দুটো সমার্থক হয়ে গিয়েছে। ঐতিহ্যের মোহনবাগান ক্লাবে আধুনিকতার প্রতীক টুটু বোস(Tutu Bose)। ১৯৯১ থেকে প্রায় ৩ দশক প্রত্যক্ষভাবে মোহনবাগান ক্লাব প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।সচিব-সভাপতির পদ সামলেছেন এই ৩ দশকে বহু চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করেছেন।এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যা মোহনবাগানের জন্য সুদূরপ্রসারী হয়েছে। প্রশাসক টুটু বোসের সেরা চার কীর্তি তুলে ধরা হল এই প্রতিবেদনে।
প্রশাসক হিসাবে শুধু সেসব চ্যালেঞ্জ সামাল দেওয়াই নয়, মোহনবাগানকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে একের পর এক যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়ে গিয়েছেন। মোহনবাগানে ভোটে বিপ্লব আনেন টুটু বোস। আগের নিয়মে সদস্যদের বাড়িতে পোস্টাল ব্যালট সদস্যদের বাড়িতে ডাক যোগে পাঠানো হত, কিন্তু পোস্ট অফিস থেকেই সেই ব্যালট লুঠ হয়ে যেত। টুটু বোস সদস্যদের সরাসরি ভোটাধিকারের দাবিতে হাইকোর্টে মামলা করেন। আইনজীবী হিসাবে এই একটা মামলাই লড়েছিলেন। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মোহনবাগান সদস্যরা সচিত্র সদস্যকার্ড পান, হাইকোর্টের তত্বাবধানে ঐতিহাসিক নির্বাচন হয়।

মোহনবাগানের ক্ষমতায় আসার পরই বাগানের একের পর এক অচলায়চন ভাঙেন। মোহনবাগান ক্লাবে বিদেশি ফুটবলার খেলানো নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু টুটু বোস মোহনবাগানের প্রথা ভেঙে বিদেশি চিমা ওকেরিকে বাগানে সই করালেন। মোহনবাগানের অন্যতম তারকা বিদেশি ফুটবলার হলেন চিমা ওকেরি। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত সবুজ-মেরুন জার্সিতে খেলেছিলেন এই নাইজেরিয়ান ফুটবলার।

টুটু বোস মানেই দল বদলের রাজা। কৃশানু-বিকাশকে সই করানো, লাল হলুদের ঘরের ছেলে মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যকে সবুজ-মেরুন জার্সি পরিয়ে দেওয়া, ব্যারেটোর জন্য উজাড় করে দেওয়া, সনি নর্দেকে নিয়ে আসা মোহনবাগানে, সবকিছুর মধ্যেই নেপথ্য একটাই নাম মোহনবাগান।

মাঠে সাফল্যের জন্য প্রয়োজন অর্থের। নিজে দরাজ হস্তে খরচা করলেন দল গঠনে। কিন্তু দূরদর্শী টুটু জানতেন শক্তিশালী দল গঠনে প্রয়োজন স্পনসর। সেখানেও মাস্টারস্ট্রোক টুটুর। বিজয় মালিয়ার কোম্পানি ম্যাকডাওয়েলকে স্পনসর করে আনেন সেই টুটুই।মাত্র ৪৯ শতাংশ শেয়ার এবং প্রায় ৭-৮ কোটি টাকা দিয়ে মোহনবাগান ক্লাবের নাম ‘ম্যাকডাওয়েল মোহনবাগান’ করে দিয়েছিল ইউবি গ্রুপ। এখন ৮০ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা ইনভেস্টরের হাতেই।

মোহনবাগান ক্লাবে একটা প্রচলিত প্রবাদ ছিল শীত গ্রীষ্ম বর্ষা টুটু বোস ভরসা। যখনই ক্লাব সংকটে পড়েছে তখনই তিনি আর্বিভূত হয়েছেন। ২০১২ সালে ডার্বি ম্যাচে দল তুলে নেওয়া ফেডারেশন নির্বাসিত করে মোহনবাগানকে। নিজে ২ কোটি টাকা দিয়ে ক্লাবের শাস্তি মুকুব করেন। ২০২০ সালে সঞ্জীব গোয়েঙ্কাকে ক্লাবের ইনভেস্টর হিসাবে আনার নেপথ্যেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বাগানের বিগ বস।

টুটু বোস শুধু মোহনবাগানের সবর্কালের সেরা প্রশাসকদের মধ্যে একজন নন, তিনি ক্লাবের আত্মার আত্মীয়। তাঁর শিরা উপশিরা সবুজ মেরুন। মানুষ চলে যায়, তাঁর কাজ থেকে যায়। দলবদলের রাজা, ডার্বির ডাগ আউটে সেই দাপুটে টুটু জীবন যুদ্ধে হার মেনেছেন মঙ্গলবার রাতে। বুধবার ১১.৩০ শেষবারের জন্য ক্লাবে আসবেন সকলের প্রিয় টুটু দা। সেখান থেকেই মহা প্রস্থানের পথে। থেকে যাবে ক্যান্টিন, গ্যালারিতে তাঁর স্মৃতি।সমর্থকদের আবেগ, ভালোবাসা।আসলে মোহনবাগানে টুটু বোস ছিলেন আছেন থাকবেন। তিনি যে মোহনবাগানীদের হৃদয়ে। তারা দেশে ভালো থাকবেন টুটু দা।

–
–
–
–
—
–
