ইস্টার্ন কোলফিল্ড লিমিটেডের (ইসিএল) কুনুস্তোরিয়া এরিয়ার পড়াশিয়া কোলিয়ারির ভয়াবহ খনি দুর্ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য। বৃহস্পতিবার সকালে ভূগর্ভস্থ কয়লা খনিতে(Coal Mine) আচমকা ভয়ঙ্কর এয়ার ব্লাস্টের ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ৪০ জনেরও বেশি খনি শ্রমিক। ঘটনায় এক শ্রমিকের মৃত্যুর হয়।
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার প্রথম শিফটে পড়াশিয়া কোলিয়ারির ২৭ নম্বর সেকশনে নিয়মমাফিক কয়লা উত্তোলনের কাজ চলছিল। সেই সময় খনির গভীর স্তর থেকে হঠাৎ প্রবল বিস্ফোরণসদৃশ এয়ার ব্লাস্ট হয়। মুহূর্তের মধ্যে তীব্র বায়ুচাপ তৈরি হয়ে খনির ভিতরে কর্মরত শ্রমিকরা ছিটকে পড়েন। বিস্ফোরণের অভিঘাতে খনির ভিতরে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ঠিকাশ্রমিকও রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার খবর পেয়েই খনির উপরে থাকা আধিকারিক ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত উদ্ধারকাজে নামে। আহত শ্রমিকদের একে একে খনি থেকে বের করে রানিগঞ্জের বাসরা এরিয়া হাসপাতাল সহ ইসিএলের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরই খনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কী কারণে এত বড় এয়ার ব্লাস্ট হল, খনির ভিতরে গ্যাসের মাত্রা বা বায়ুচাপ সংক্রান্ত পর্যাপ্ত নজরদারি ছিল কিনা, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে শ্রমিক মহলে। শ্রমিক সংগঠনগুলির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই খনিতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক ত্রুটি নিয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হলেও সেটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

খনি কর্তৃপক্ষের গাফিলতি এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি সংগঠনগুলির। ঘটনার প্রতিবাদে খনি এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভও দেখানো হয়। ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের দাবি, অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং আহত শ্রমিকদের উপযুক্ত চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। ইসিএল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দল খনির ভিতরে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। তবে এই মর্মান্তিক ঘটনার জেরে সমগ্র খনি এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শ্রমিকদের একাংশের অভিযোগ, প্রাণ হাতে করেই প্রতিদিন খনিতে কাজ করতে নামতে হয় তাঁদের।

–

–

–

–
–
–
–
