আচমকা অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে (Presidency Correctional Home) বন্দিদের থেকে উদ্ধার সিম কার্ড সহ মোট ২৩টি মোবাইল ফোন। এর জেরে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের সুপারিন্টেন্ডেন্ট-সহ দুজনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। শুক্রবার, নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে একথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Shubhendu Adhikari)। পাশাপাশি সিআইডিকে দিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যের সংশোধনাগারগুলিতে বন্দিদের মোবাইল ফোন (Mobile Phone) ব্যবহার রুখতে রাজ্য সরকার কঠোর পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের। নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে (Presidency Correctional Home) আচমকা অভিযান চালিয়ে সিম কার্ড-সহ মোট ২৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, “রাতেই খবর পেয়ে চার ঘণ্টার অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ২৩টি মোবাইল ফোন ও একাধিক সিম উদ্ধার হয়েছে। এর পরই ২৩টি এফআইআর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজকে আমরা প্রেসিডেন্সি জেলের ঘটনায় দু’জনকে সাসপেন্ড করছি। এন কুজুর, প্রেসিডেন্সি জেলের সুপারিন্টেন্ডেন্ট এবং দীপ্ত ঘড়াই, প্রেসিডেন্সি জেলের চিফ কন্ট্রোলার।“ মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই ফোনগুলো কোথা থেকে এল, কারা সংশোধনাগারের ভিতরে পৌঁছে দিল, এবং সেগুলি দিয়ে কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।

শুভেন্দুর কথায়, জেলের ভিতরে মোবাইল ফোন ব্যবহারের কোনও অনুমতি নেই। বন্দিদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলার জন্য প্রতিটি সংশোধনাগারেই ল্যান্ডফোনের ব্যবস্থা রয়েছে। সেই ব্যবস্থাই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে চালু রাখা হচ্ছে।

জেলের ভিতর মোবাইল ফোন রাখার ঘটনার তদন্তের ভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, মোবাইল ও সিম কার নামে রয়েছে, কল রেকর্ড কী এবং এই নেটওয়ার্কের মূল শিকড় কোথায়- তা বের করতেই হবে। শুধু জেলবন্দিরাই নন, বাইরে থেকে ফোন রিসিভ বা কল করা যাঁরা, তাঁরাও তদন্তের আওতায় আসবেন বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, জেলের ভিতরে কোনও ‘নেক্সাস’ বা যোগাযোগচক্র সক্রিয় থাকলে- তা অর্থের বিনিময়ে হোক বা রাজনৈতিক প্রভাবেই হোক, কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তাই কঠোর নজরদারি ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পথে হাঁটছে রাজ্য।
আরও খবর: আর জি কর-কাণ্ডে বড় নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর: যথাযথ পদক্ষেপ না করা থেকে বেআইনি অর্থ-প্রস্তাবের অভিযোগে সাসপেন্ড ৩ IPS

শুভেন্দু বলেন, সংশোধনাগারের ভিতরে শৃঙ্খলা ভাঙার যে কোনও প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সরকার কঠোর থাকবে। তাঁর কথায়, “বাংলা পুলিশ এবং সিআইডি যথেষ্ট দক্ষ। তাদের কাজ করতে দিন, ফলাফল পাওয়া যাবে।”

–

–
–
–
