দিল্লির লালকেল্লা (Red Fort in Delhi) সংলগ্ন ভয়াবহ গাড়ি বোমা বিস্ফোরণ মামলার তদন্তে অগ্রগতি। প্রায় ৬ মাস তদন্তের পর ১০ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সাড়ে ৭ হাজার পাতার বিশাল চার্জশিট পেশ করল ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (National Investigation Agency)। এই বিস্ফোরণের জেরে ১১ জনের মৃত্যু হয়, আহত হন বহু মানুষ। তদন্তে উঠে এসেছে, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ভেহিকেল বোর্ন ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ (Vehicle Borne Improvised Explosive) ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়।
NIA র চার্জশিট অনুযায়ী, এই হামলার নেপথ্যে ছিল আল কায়দা ঘনিষ্ঠ সংগঠন ‘আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দ’ (Ansar Ghazwat-ul-Hind), যা একিউআইএসের (AQIS) একটি শাখা হিসেবে পরিচিত। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে সংগঠিতভাবে জঙ্গি কার্যকলাপের পরিকল্পনা করছিল এবং একাধিক রাজ্যে তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত ছিল। এই মামলায় মূল অভিযুক্ত ছিলেন ডাঃ উমের উন নবী, যিনি বিস্ফোরণে নিহত হন। ডিএনএ পরীক্ষার (DNA Test) মাধ্যমে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। আরও পড়ুন: তিলজলায় বুলডোজার দিয়ে বাড়ি ভাঙায় অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ হাই কোর্টের! মিলছে না পুনর্বাসনও

চার্জশিটে আরও যে ৯ জনের নাম রয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন একাধিক চিকিৎসক ও শিক্ষিত পেশাদার। এদের মধ্যে আমির রশিদ মীর, জাসির বিলাল ওয়ানি, ডাঃ মুজামিল শাকিল, ডাঃ আদিল আহমেদ রাথার, ডাঃ শাহিন সাঈদ, মুফতি ইরফান আহমদ ওয়াগে, সোয়েব, ডাঃ বিলাল নাসির মাল্লা এবং ইয়াসির আহমদ দার উল্লেখযোগ্য। তদন্তে জানা গিয়েছে, ২০২২ সালে শ্রীনগরে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে এই নেটওয়ার্ককে পুনর্গঠনের চেষ্টা করা হয়।

অভিযুক্তরা বিস্ফোরক তৈরির প্রশিক্ষণ, অস্ত্র সংগ্রহ এবং আইইডি পরীক্ষার মতো কাজেও যুক্ত ছিল। ফরেন্সিক রিপোর্ট, ডিজিটাল প্রমাণ ও একাধিক সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এনআইএ দাবি করেছে, এটি একটি বৃহত্তর সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্রের অংশ। এখনও পর্যন্ত এই মামলায় মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পলাতকদের খোঁজ চলছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।

–

–

–

–
–
–
