একদিকে যখন দেশের মানুষকে বিদেশ সফর কমানোর নির্দেশ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, সেখানে তিনি নিজেই বিদেশ সফরে। সেই বিদেশ সফর থেকে নিজের মুখ রাখতে তেলের চুক্তির কথা ঘোষণা করা হচ্ছে বিদেশ মন্ত্রকের তরফে। আদতে সেই চুক্তিতে দেশের লাভ কতটা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন দেশের অর্থনীতিবিদরা। ইউএই-র (UAE) সঙ্গে ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের চুক্তির (crude oil treaty) উল্লেখ করা হয়। সেখানেই অর্থনীতিবিদদের প্রশ্ন, হরমুজ (Strait of Hormuz) থেকে যেখানে মাত্র ১০টি জাহাজ শেষ ৭৫ দিনে এসেছে, সেখানে তেল আসা নিয়ে কোন পথ খুলতে পারলেন প্রধানমন্ত্রী?
সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সফর শেষে ভারতের বিদেশ সচিব (Vikram Misri) বিক্রম মিশ্রি একটি ভিডিও বার্তায় জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) আরবের সঙ্গে তেল-চুক্তির কথা। জানানো হয়েছে, ইউএই ভারতের জন্য ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল (barrel) তেল মজুত রাখবে। যে পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির বাইরে থেকে জ্বালানি তেল কেনা ভারতের পক্ষে সমস্যাজনক হচ্ছে, তখন সেই এলাকার দেশকে জ্বালানি তেল মজুত রাখতে চুক্তিতে আনাকে সাফল্য হিসাবে তুলে ধরছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার।

কেন্দ্রের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে গত সপ্তাহে ৬০ দিনের জ্বালানি তেল মজুত থাকার দাবি করা হয়েছিল। হরমুজের বাধা পেরিয়ে পশ্চিম এশিয়া থেকে ভারতের তৈলবাহী জাহাজ (oil ship) রওনা দিলে তবে সেই ভাণ্ডার নতুন করে পূরণ হওয়া সম্ভব। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ার দেশে ভারতের জন্য তেল মজুত করার মধ্যে আদৌ কোনও লাভ রয়েছে কি না, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। যে সংকীর্ণ হরমুজ দিয়ে জাহাজ আসা যাওয়া বন্ধ হওয়ার কারণে তেলের সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না, সেই পথে তেল আনার জন্য আদৌ কি কোনও পথ তৈরি করতে পেরেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, প্রশ্ন অর্থনীতিবিদদের।

আরও পড়ুন : সঙ্কটের মধ্যেই শুল্ক বাড়ল পেট্রোলের, ডিজেল-বিমানের জ্বালানির রফতানি করে ছাড়

তথ্য পেশ করে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (JNU) অর্থনীতির অধ্য়াপক অরুন কুমার জানান, আগে যে হারে পশ্চিম এশিয়া থেকে ভারতে জ্বালানি তেল (crude oil) আসত, তাতে গত ৭৫ দিনে অন্তত ৭৫০টি তৈলবাহী জাহাজ (oil ships) ভারতে পৌঁছে যাওয়ার কথা। অথচ বাস্তবে এই ৭৫ দিনে মাত্র ১০টি জাহাজ এসেছে। যা শতাংশের হিসাবে কিছুই না। কাজেই তৈল সংকট অবশ্যম্ভাবী। আমেরিকা বা ইরান যুদ্ধ না থামালে হরমুজ প্রণালী খুলবে না, তাহলে ভারতে কোনও তৈলবাহী জাহাজও আসবে না। সেক্ষেত্রে আমেরিকা বা ভেনেজুয়েলার মতো দেশ থেকে জ্বালানি তেল কেনাই একমাত্র জ্বালানি সংকট মেটানোর পথ।

–

–

–
–
–
