মাতৃত্বের প্রথম বছরেই এক অনন্য মানবিক নজির গড়লেন ভারতের প্রাক্তন ব্যাডমিন্টন তারকা জোয়ালা গুট্টা (Former badminton star Joala Gutta)। সন্তানের জন্মের প্রায় এক বছর পর তিনি প্রায় ৬০ লিটার দুধ দান করেছেন গুরুতর অসুস্থ ও অপরিণত নবজাতকদের জন্য। সাধারণত ব্যক্তিগত মাতৃত্বের এই সময়টা যেখানে শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জে ভরা থাকে, সেখানে জোয়ালার এই সিদ্ধান্ত নিঃশব্দে বদলে দিয়েছে বহু শিশুর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা। ক্রীড়া দুনিয়ার পরিচিত মুখ হলেও, এই পদক্ষেপে তিনি যেন মানবিকতার এক নতুন সংজ্ঞা তৈরি করলেন।
২০২৫ সালের এপ্রিলে কন্যাসন্তান মীরার (Meera) জন্মের পর থেকেই জোয়ালা লক্ষ্য করেন তাঁর শরীরে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পরিমাণে মাতৃদুগ্ধ আছে। এই বাড়তি দুধ নষ্ট না করে তিনি তা দান করার সিদ্ধান্ত নেন। নতুন মায়ের জন্য এটি একদমই সহজ কাজ না। নিয়মিতভাবে দুধ সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্যাকেজিং এবং নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া। সব নিয়মই তিনি পালন করেছেন। প্রতিটি প্যাকেজে তারিখ ও সময় লিখে ফ্রিজে রাখার মতো প্রক্রিয়াগুলোও তিনি নিজের দায়িত্বে করেছেন।

চিকিৎসকদের মতে, অপরিণত শিশুদের ক্ষেত্রে মাতৃদুগ্ধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং জটিল সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়। বিশেষ করে নেক্রোটাইজিং এন্টারোকোলাইটিস (Necrotizing Enterocolitis) নামের মারাত্মক অন্ত্রের রোগের সম্ভাবনা মাতৃদুগ্ধ গ্রহণে অনেকটাই কমে যায়। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে জোয়ালার প্রায় ৬০,০০০ মিলিলিটার দান বহু শিশুর চিকিৎসা ও সুস্থতার ক্ষেত্রে অনেকটা সাহায্য করেছে। এই দুধ সরকারি মানব দুগ্ধ ব্যাংকের মাধ্যমে নিরাপদভাবে প্রক্রিয়াজাত করে প্রয়োজনীয় শিশুদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

জোয়ালা গুট্টার( Jwala Gutta) এই উদ্যোগ শুধু ব্যক্তিগত উদারতার উদাহরণ নয়, বরং ভারতের হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক ব্যবস্থার গুরুত্বকেও সামনে এনেছে। দেশে এখনো চাহিদার তুলনায় দান করা মাতৃদুগ্ধের পরিমাণ অনেক কম, ফলে বহু নবজাতক পর্যাপ্ত পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়। রক্তদানের মতোই মাতৃদুগ্ধ দানকে সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মাতৃত্বের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তাঁর এই মানবিক পদক্ষেপ এখন অনেক নতুন মাকেই অনুপ্রাণিত করছে।

–

–

–

–
–
–
