বাংলায় পাথরবাজি চলবে না, পুলিশের গায়ে হাত দিলে পুলিশমন্ত্রী হিসেবে যতদূর যেতে হয় যাব। রবিবার পার্কসার্কাসে অশান্তির পরে সোমবার কলকাতার ডিসি (DC) অফিসে আক্রান্ত আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করা পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Subhendu Adhikari)। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, “কাশ্মীরে পাথর ছোড়া বন্ধ হয়েছে। এখানেও বন্ধ হবে। যদি মনে করেন আগের সরকার আছে, আগের নিয়ম আছে, তাহলে খুব ভুল করছেন। আমি বলে যেতে চাই, কেউ পাথর হাতে তুলে নেবেন না। এটাই শেষ ঘটনা। এর পর এমন ঘটনা ঘটলে আমার চেয়ে খারাপ পুলিশমন্ত্রী আর কেউ হবে না।”
রবিবার দুপুরে রাজ্য সরকারের (State Goverment) ‘বুলডোজোর নীতি’র প্রতিবাদে বিক্ষোভ থেকে অশান্তি ছড়ায় পার্ক সার্কাস (Park Circus) চত্বরে। উত্তেজিত জনতাকে সরারে গেলে এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। পুলিশের অভিযোগ হঠাৎই জমায়েত থেকে তাদের উপর ইটবৃষ্টি হয়। বিক্ষোভকারীদের পাল্টা অভিযোগ, প্রথমে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের (Police) ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন পুলিশমন্ত্রী। এদিন সকালে নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরে পার্ক সার্কাসে ডিসি অফিসে যান শুভেন্দু (Subhendu Adhikari)। সেখানে গিয়ে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তার পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আহত পুলিশকর্মী এবং সিআরপিএফ জওয়ানদের নাম পড়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”ওঁদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। কতটা জখম হয়েছেন দেখলাম। আমাদের পুরো বাহিনী গতকাল যে ভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করেছে, বড় অঘটন ঘটতে দেয়নি, মানুষজনকে বাঁচিয়েছে, তাদেরও আমি সাপোর্ট দিতে এসেছিলাম। বলেছি, সরকার আপনাদের সঙ্গে আছে। আপনারা বিএনএস অনুযায়ী, ভয়মুক্ত হয়ে কাজ করবেন। আপনাদের মুখ্যমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্বদা আপনাদের পাশে রয়েছে। নগরপালের নেতৃত্বে পুরো দল রয়েছে।”

এর পরেই কড়া বার্তা দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী। তিনি সাফ জানান, ”যে কোনও রাজনৈতিক সংগঠন, ধর্মীয় সংগঠন পুলিশকে জানিয়ে তাদের কর্মসূচি করতে পারে। কিন্তু মানুষ জড়ো করে ধর্মীয় স্লোগান দেওয়া, পাথর ছোড়া- কাশ্মীরে, শ্রীনগরে পুলিশকে পাথর ছোড়া বন্ধ হয়েছে, আমার মনে হয় পশ্চিমবঙ্গ তথা কলকাতাতেও এ বার বন্ধ হবে।”

শুভেন্দুর কথায়, ”আমি আবেদন করব, এই কাজগুলো আর করবেন না। যদি মনে করে থাকেন, আগের সরকার আছে, আগের নিয়ম আছে, পুলিশফোর্সকে হাত-পা বেঁধে রেখে দেওয়া হবে, তা হলে কিন্তু ভুল করবেন। তাই ‘ক্লিয়ার মেসেজ’ দিচ্ছি, এই ধরনের অশান্তি, গুন্ডামিতে ‘জ়িরো টলারেন্স’। অ্যান্টি ন্যাশনাল, অ্যান্টি সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটি চালাতে দেব না।”

সতর্ক করে পুলিশমন্ত্রী বলেন, ”হোম মিনিস্টার হিসাবে আমি লাস্ট ওয়ার্ড বলে গেলাম, একটা পুলিশের গায়ে যদি হাত পড়ে, এই সরকার তার জন্য আইন প্রয়োগ করে যত দূর যেতে হয় যাবে। শুধু অ্যারেস্ট নয়, কনভিকশন করানো পর্যন্ত ক্লোজ মনিটরিংয়ের দায়িত্ব আমাদের হাতে থাকবে। আর পুলিশের বন্ধুদের বলব, আপনাদের প্রশিক্ষণের সময় যা বলা হয়েছে, বিএনএস যা বলে, আপনাদের ঊর্ধ্বতন যে নির্দেশ দেবেন, সেই অনুযায়ী ভয়মুক্ত হয়ে কাজ করবেন।”

পুলিশকে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ ”অ্যাকশন নিতে গেলে যেন পাঁচ বার না ভাবতে হয় পুলিশকে।” অভিযুক্তদের উদ্দেশে শুভেন্দুর বার্তা, ”আপনারাও কান খুলে শুনে নিন, এটাই শেষ ঘটনা। এর পর এমন ঘটনা ঘটতে দেব না। এর পর এমন ঘটনা যদি ঘটান, আমার থেকে খারাপ কোনও পুলিশমন্ত্রী হবে না।”

পার্ক সার্কাসের অশান্তির প্রেক্ষিতে পূর্বতন সরকারকে খোঁচা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ” আগে পুলিশের হাত-পা বাঁধা ছিল। এখন তারা স্বাধীন। আইনের রক্ষক আইন মেনে কাজ করবেন।” একই সঙ্গে পুলিশের বিরুদ্ধেও যদি সাধারণ মানুষের অভিযোগ থাকে সেটাও জানাতে বলেন তিনি। তাঁর কথায়, ” পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে ওসি, আইসি-র কাছে জানান। ওসি, আইসি-র বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে ডিসি-র সঙ্গে দেখা করুন। ডিসি-র বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকলে লালবাজারে যান। না হলে মেল করুন। সিপি-র বিরুদ্ধে কিছু বলার থাকলে নবান্নে চিঠি পাঠান। আমরা দেখব।” শেষে ফের তিনি বলেন, ”কিন্তু হাতে পাথর তুলে নেওয়া, ধর্মীয় স্লোগান দিয়ে গন্ডগোল করা পশ্চিমবঙ্গে আর চলবে না।”
–
–
