বাংলায় ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠা হলে কেন্দ্র থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। প্রথমেই রেল প্রকল্পে দরজা খুলেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। এবার জলজীবন মিশনের (Jal Jeevan Mission) আটকে থাকা অর্থে অনুমোদন দিল কেন্দ্রের জল সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক (Ministry of Jal Shakti)। সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে (virtual meeting) তা নিয়ে স্বাক্ষরিত হল মউ (MoU)। ফলে দ্রুততার সঙ্গে বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছে দেওয়ার কাজ করা সম্ভব হবে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikary)।
সোমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সিআর পাতিলের (C R Patil) সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ভি সোমান্না, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, কেন্দ্রীয় পানীয় জল ও স্বচ্ছতা বিভাগের সচিব অশোক কে কে মিনা, পশ্চিমবঙ্গের প্রিন্সিপাল রেসিডেন্ট কমিশনার দুষ্মন্ত নারিয়ালা-সহ কেন্দ্র ও রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকরা।

জল সম্পদ মন্ত্রকের অধীনে বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছে দেওয়ার কাজ যে বাংলায় যথেষ্ট হয়েছে তা স্পষ্ট করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি জানান, ২০২৬ সালে ‘জল জীবন মিশন ২’ (Jal Jeevan Mission 2) শুরু হয়েছে ১ লক্ষ ৬৯ হাজার কোটি টাকার বাজেট নিয়ে, যা ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। তাঁর দাবি, ২০১৯ সালে পশ্চিমবঙ্গে মাত্র ১ শতাংশ গ্রামীণ পরিবারে নলের জল পৌঁছত, বর্তমানে সেই হার বেড়ে ৫৬ শতাংশ হয়েছে। যদিও স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়িতে পানীয় জল পরিষেবার হার এখনও জাতীয় গড়ের নিচে।

তবে এই প্রকল্পে যে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের কারণে সমস্যা হয়েছে, তা মেনে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তিনি দাবি করেন, গত পাঁচ বছরে কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গকে ২৯ হাজার কোটি টাকা দিলেও প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি হয়নি এবং বহু ক্ষেত্রে কাজ শুধুমাত্র কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল। তাঁর অভিযোগ, মাঝখানে প্রকল্পের নাম বদলে ‘জল স্বপ্ন’ করা হয়েছিল। সেই সঙ্গে তিনি জানান, দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩৯ হাজার কোটি টাকার নতুন চুক্তির (MoU) মাধ্যমে প্রতিটি ঘরে নলের মাধ্যমে পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার কাজ আরও গতি পাবে।

আরও পড়ুন : সপ্তম বেতন কমিশনের অনুমোদন, ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী সহায়তামূলক প্রকল্পগুলি বন্ধ: জানালেন অগ্নিমিত্রা

তবে সোমবারের ভার্চুয়াল বৈঠকে জল জীবন মিশন ছাড়াও রাজ্যের দাবি তুলে ধরেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। সেচ প্রকল্পের (irrigation) ক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় সহায়তা চেয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের সহযোগিতা ছাড়া বৃহৎ পরিকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন কঠিন।

–

–
–
–
