রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু হয়েছে এবং বিনা কারণে শাসকদলের নেতা-কর্মীদের নিশানা করা হচ্ছে, এই অভিযোগে সরব হল তৃণমূল কংগ্রেস। স্বরূপনগরের বলিষ্ঠ তৃণমূল নেতা নারায়ণচন্দ্র করকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে এবং ঠিক কী কারণে এই পদক্ষেপ, তার জবাব তলব করতে মঙ্গলবার স্বরূপনগর থানায় পৌঁছল তৃণমূলের তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম বা প্রতিনিধি দল। এই দলে ছিলেন তৃণমূলের মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ, সাংসদ সুস্মিতা দেব এবং সাজদা আহমেদ। স্থানীয় দলীয় নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন।
থানা থেকে বেরিয়ে তৃণমূল মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোট পরবর্তী হিংসার একটি ঘটনায় দীর্ঘ পাঁচ বছর পর হঠাৎ একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আর সেই পুরনো ও সাজানো মামলার ভিত্তিতেই স্বরূপনগর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি তথা তেপুল-মির্জাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী নারায়ণচন্দ্র করকে সোমবার রাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্থানীয় বিধায়ক বীণা মণ্ডলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও দাপুটে এই নেতাকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধরা হয়েছে বলে দাবি তাঁর।

তন্ময় ঘোষের আরও অভিযোগ, ভোটের ফল ঘোষণার পর স্বরূপনগরের তৃণমূল বিধায়ক বীণা মণ্ডলের বাড়িতেও বিজেপির পতাকা হাতে একদল দুষ্কৃতী চড়াও হয়ে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে, তাঁর বাড়ি ও গাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এদিনের বৈঠকে এই হামলার প্রসঙ্গটিও পুলিশের সামনে জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে আর্জি জানানো হয়েছে, রাজনৈতিক দলমতনির্বিশেষে এলাকার কোনও মানুষ যেন ঘরছাড়া না হন এবং কোনও দলের কার্যালয় যেন জোরপূর্বক দখল না করা হয়। এলাকায় যাতে কোনও ভয়ের পরিবেশ বা ত্রাসের সৃষ্টি না হয়, প্রশাসনকে তা নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ-প্রশাসন যাতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কাজ করে সকলের সুরক্ষার ব্যবস্থা করে, সেদিকে তাঁদের কড়া নজর থাকবে বলেও প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁদের আশ্বস্ত করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন- সাংসদ সায়নীর মাথা কাটলে ১ কোটি পুরস্কার! ঘোষণা যোগীরাজ্যের পুরসভার চেয়ারম্যানের

_

_

_

_
_
_
_
