আইনের ধারা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন করা উচিত দাবি করে সংসদের প্রতিটি অধিবেশনে আইনে বদল আনে বিজেপির বর্তমান সরকার। অথচ গো-হত্যার সময়ে স্মরণ করে আনা হল ১৯৫০ সালে তৈরি একটি আইন। যে আইনের ভিত্তিতে বাংলার বর্তমান সরকার ঈদ উপলক্ষ্যে গো-হত্যায় (cow slaughter) নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, এবার সেই আইনকে সময়োপযোগী নয়, সেকেলে। এমনটাই দাবি করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ সিপিআইএম লিবারেশন (CPIML)।
রাজ্যের বিজেপি সরকার উৎসবে পশু বলিদানের যে নির্দেশিকা জারি করেছে তাতে সংবিধানের তিনটি অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে, অভিযোগ সিপিআইএমএলের। প্রথমত, এখানে স্বাধীন ধর্মাচরণের অধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের কুরবানিতে বলিদান নিয়েই এই বিজ্ঞপ্তির নিরিখে কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) অভিযোগ জানিয়েছে এই বাম দল।

দ্বিতীয়ত, এই নির্দেশিকা জীবন যাপনের অধিকারও হরণ করছে, যুক্তি তুলে ধরেছে সিপিআইএমএল। তাঁরা দাবি করেন, সাধারণ কৃষকরা নিজেদের গবাদি পশু এই আইনের বলে বিক্রি করে জীবন যাপন করেন। কিন্তু বিজ্ঞপ্তির (notification) পরে বাংলার প্রায় সর্বত্র কৃষকদের থেকে গরু কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এর ফলে হিন্দু সম্প্রদায়ের কৃষকরাও সমস্যার সম্মুখিন।

আরও পড়ুন : ইদে গোহত্যায় কড়াকড়ি! বিজেপি সরকারের নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে মহুয়ারা

সিপিআইএমএল-এর পক্ষ থেকে যে তৃতীয় অভিযোগ করা হয়েছে তা হল, বিজ্ঞপ্তির জেরে নাগরিকদের স্বাধীনভাবে খাবার বেছে নেওয়ার সাংবিধানিক অধিকারেও হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। বুধবার কলকাতা হাই কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা এই মর্মে দায়ের করা হয়। অন্যদিকে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র ও বিধায়ক আখরুজ্জামানও এই একই ইস্যুতে বুধবার মামলা দায়ের করেন। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। আদালত রাজ্যের জবাব তলব করেছে।

–

–

–
–
–
