তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জমানের আর্জিকেই মান্যতা, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পশুবলিতে যে ছাড় আইনে আছে, রাজ্যকে তা বিবেচনার নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বকরি ইদের কুরবানির আগে পশু জবাই নিয়ে মামলায় ১৯৫০ সালের যে পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন রয়েছে, তাতে ১২ নং ধারায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে পশুবলিতে যে ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে এবিষয়ে রাজ্যকে বিবেচনার নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট।
বাংলায় পালাবদলের পরে বিজেপি সরকারের তরফ থেকে পশুহত্যা নিয়ে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। গরু, মহিষ, বাছুর জবাইয়ের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এর বিরোধিতা করে কলকাতা হাই কোর্টে একাধিক মামলা হয়েছে। সেই মামলার শুনানি হয় বৃহস্পতিবার। সেখানে তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জমানের আবেদন করেন, ১৯৫০ সালের আইনের ১২ ধারার আওতায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পশুবলির ক্ষেত্রে ছাড়ের কথা বলা আছে- তা বলবৎ করা হোক।

এদিন শুনানিতে হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, ১৯৫০ সালের আইনের ১২ ধারার আওতায় কিছু আবেদনকারী যে ছাড়ের জন্য আবেদন করেছেন, রাজ্য সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুক। ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্যকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যেহেতু উৎসবগুলি এই মাসের ২৭-২৮ তারিখ। সুতরাং বিষয়টি বিবেচনা করে সিদ্ধান্তের কথা জানাতে হবে।

এর পরে আখরুজ্জমান ও তৃণমূলের অপর বিধায়ক কুণাল ঘোষ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। কুণাল বলেন, “সব ধর্মের সমান সাংবিধানিক অধিকার আছে তাদের ধর্মের রীতিনীতি পালনে। বিজেপি বলছে গো হত্যা বন্ধ। আবার সেই জিনিসই বিপুল পরিমাণ ভারত সরকার রফতানি করে বৈদেশি মুদ্রা অর্জন করছে। এই দ্বিচারিতা কেন? এখানে যদি গোহত্যা বন্ধ করেন এক্সপোর্ট বন্ধ করুন। এক্সপোর্ট যদি চালু থাকে তাহলে এখানে করতে দিন।“

বেলেঘাটার বিধায়কের কথায়, আখরুজ্জামান মামলাটিতে আইনকে চ্যালেঞ্জ করেননি। ১৯৫০ সালের আইনের ১২ নম্বর ধারা অনুযায়ী ধর্মীয় উৎসবের ক্ষেত্রে আইনে শিথিলতা আনা হোক, এই আবেদন করেছিলেন। মহামান্য হাইকোর্ট আখরুজ্জামানের আবেদনে মান্যতা দিয়ে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ সম্পর্কে তাঁদের বক্তব্য জানাতে হবে, কোর্টে একটা অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।

আখরুজ্জামান জানান, কুরবানি আমাদের ধর্মের অংশ। ১৯৫০ সালে যে পশুহত্যা সংক্রান্ত, এ সংক্রান্ত যে আইন, তার ১২ নম্বর ধারায় তিনটি বিশেষ ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার ছাড় দিতে পারে, শিথিল করতে পারে। ১২ নম্বর ধারায় তিনটি ক্ষেত্রে শিথিল হতে পারে। ধর্মীয় উৎসব, গবেষণা এবং চিকিৎসা। এই ধারা তুলে ধরেই আবেদন করা হয়। তার প্রেক্ষিতেই নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।

আরও পড়ুন- ঝাড়গ্রামে হাতির তাণ্ডব, ২৪ ঘণ্টায় জোড়া মৃত্যু! লোধাশুলিতে বন দফতরের গাড়ি ঠেলল ‘রামলাল’

_
_
_
_
