চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে চরম নাটকীয় পরিস্থিতি! নামের সামান্য ভুলে এক সম্পূর্ণ নির্দোষ যুবককে এতদিন জেল খাটতে হল। অবশেষে গত সোমবার উত্তরপ্রদেশের মুজফফরনগর থেকে মূল অভিযুক্ত রাজকুমার সিংকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। এর পরেই কেটেছে যাবতীয় কুয়াশা। তদন্তকারী সংস্থা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ায় মুক্তি পেয়েছেন ওই নির্দোষ যুবক। তবে এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।
তদন্তের শুরুতেই নামের মিলের কারণে এই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। মূল অভিযুক্ত রাজকুমার সিংয়ের ডাকনাম ছিল ‘রাজ সিং’। এই সূত্র ধরেই উত্তরপ্রদেশ থেকে রাজ সিং নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। যদিও ধৃতের পরিবার প্রথম থেকেই দাবি করে আসছিল, খুনের দিন রাজ কলকাতায় ছিলেনই না, বরং উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় একটি বিয়েবাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। প্রমাণ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজ এবং বিয়ের ভিডিও পেশ করা হলেও তাতে কান দেয়নি পুলিশ।
ছেলের গ্রেফতারির পর পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন রাজের মা জামবন্তী সিং। আজমগড়ের ডিআইজি-র কাছে লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, গত ৯ মে সকালে মা-ছেলে মিলে অযোধ্যায় পুজো দিয়ে ফেরার পথে পুলিশ হঠাৎ রাজকে তুলে নিয়ে যায় এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসায়। সিবিআই তদন্তভার হাতে নেওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখে বুঝতে পারে যে ধৃত যুবক সম্পূর্ণ নির্দোষ। এর পরেই কলকাতার আদালতে গিয়ে সত্যটি জানায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। আদালত সঙ্গে সঙ্গে ওই নির্দোষ যুবককে সসম্মানে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেয়। অন্য দিকে, আসল খুনি রাজকুমার সিং যাতে কোনোভাবেই পালাতে না পারে, সেজন্য জাল বুনেছিল সিবিআই। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে উত্তরপ্রদেশের মুজাফফরনগরের একটি টোল প্লাজার কাছে স্থানীয় পুলিশের সাহায্য নিয়ে ওঁত পাতেন গোয়েন্দারা। রাজকুমার তখন দিল্লি হয়ে উত্তরাখণ্ডে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। ঠিক সেই সময়ই তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলা হয়।
আরও পড়ুন- প্রশাসনে বড় রদবদল! বিধাননগর ও আসানসোলে নতুন পুর কমিশনার
_
_
_

_

_

_

_

