মুখে এক কাজে আর এক। ক্যামেরার সামনে বিজেপি নেতৃত্ব বলছেন, কোনও পুরসভা-পঞ্চায়েত-পঞ্চায়েত সমিতি-জেলা পরিষদ আমরা দখল করব না। অথচ রাজ্য জুড়ে একের পর এক পুরসভা দখল চলছে স্রেফ ভয় দেখিয়ে। শাসক শিবিরের একাংশের বিরুদ্ধে ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলররা গণপদত্যাগ করছেন, যার জেরে একের পর এক বোর্ড ভেঙে যাচ্ছে। হালিশহর ও ভাটপাড়ার পর এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো পূর্ব মেদিনীপুরের ঐতিহ্যবাহী কাঁথি পুরসভা।
সম্প্রতি কাঁথি পুরসভার তৃণমূল পরিচালিত বোর্ড ভেঙে দিয়েছে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করে পুরসভার প্রশাসনিক দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে কাঁথির মহকুমাশাসক ধুমাল প্রতীক অশোকের হাতে। শুধু জেলা স্তরেই নয়, খোদ কলকাতা পুরনিগমের সচিবকে তড়িঘড়ি বদলি করা এবং অধিবেশন বন্ধ রাখার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। একই সাথে বদলের হাওয়া লেগেছে বিধাননগর পুরনিগমেও। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, পরিকল্পনা করে কাউন্সিলরদের ভয় দেখিয়ে পদত্যাগ করানো হচ্ছে এবং পরে আইনি জটিলতা তৈরি করে প্রশাসক বসানো হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের অনুমান, আগামী ডিসেম্বর বা জানুয়ারি মাসের মধ্যে পুরভোট করিয়ে এই পুরসভাগুলির রাশ সম্পূর্ণ নিজেদের হাতে নেওয়ার কৌশল নিয়েছে নতুন শাসকদল।

কাঁথি পুরসভার ঘটনাটি খতিয়ে দেখলে বোঝা যায় পরিস্থিতি কতটা জটিল। ২১টি ওয়ার্ডের এই পুরসভায় ভাইস চেয়ারম্যানসহ ১৩ জন তৃণমূল কাউন্সিলর একসঙ্গে পদত্যাগ করেন। এরপরই পুরসভায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে মর্মে গত ১৩ মে জেলাশাসকের মাধ্যমে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরে একটি রিপোর্ট পাঠান মহকুমাশাসক। তার ভিত্তিতে গত ১৮ মে পুরবোর্ডকে শোকজ নোটিশও পাঠানো হয়। কিন্তু পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকায় শেষ পর্যন্ত বোর্ড ভেঙে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় দফতর। তৃণমূলের দাবি, এই পদত্যাগগুলি স্বাভাবিক নয়, বরং প্রবল চাপের মুখে পড়ে কাউন্সিলররা ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছেন।

অনুরূপ ঘটনা ঘটেছে গ্রামীণ এলাকাতেও। দিন চারেক আগে নদিয়া জেলার আরংঘাটা পঞ্চায়েতের এক মহিলা প্রধানকে আটকে রেখে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে সই করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। বিরোধীদের বক্তব্য, মুখে গণতান্ত্রিক রীতির কথা বললেও প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে এবং ভয় দেখিয়ে নিচু তলার জনপ্রতিনিধিদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিবেশের পক্ষে অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

আরও পড়ুন- শিক্ষাক্ষেত্রেও এবার বেসরকারীকরণের হাওয়া! রাজ্যে ‘বিদ্যাঞ্জলি’ প্রকল্প চালুর তোড়জোড়

_

_

_
_
_
_
