প্রকাশ্য দিবালোকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর ‘পরিকল্পিত প্রাণঘাতী’ হামলার অভিযোগে সরব হলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, নির্বাচন-পরবর্তী হিংসায় নিহত দলীয় কর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে যাওয়ার পথে বিজেপি এবং পুলিশের যৌথ ‘চক্রান্তে’র শিকার হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। এই ঘটনার নেপথ্যে দেশের এক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর হত্যাকাণ্ডের ছক লুকিয়ে রয়েছে বলেও চরম আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
কুণালের অভিযোগ, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গতিবিধি আগে থেকে জানানো সত্ত্বেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনও পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়নি। সম্পূর্ণ সংগঠিত ও চক্রান্তমূলকভাবে বাইরে থেকে লোক এনে এই হামলা চালানো হয়েছে।” প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ টেনে তিনি বলেন, “অভিষেকের গাড়ি আটকে বড় বড় পাথর ছোড়া হয়েছে। ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিয়ে নৃশংসভাবে শারীরিক নিগ্রহ করা হয়েছে তাঁকে। কপালগুণে মাথায় হেলমেট থাকায় এ যাত্রায় বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে।” চোখের পুরোনো সমস্যা থাকা সত্ত্বেও অভিষেকের ওপর এই ধরনের ‘বর্বরোচিত’ হামলায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।
এখানেই শেষ নয়, আক্রান্ত দলীয় সাংসদের চিকিৎসা নিয়েও প্রশাসনের শীর্ষ মহলের বিরুদ্ধে ‘অমানবিক’ রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ তুলেছেন কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, প্রথমে অ্যাপোলো এবং পরে বেলভিউ ক্লিনিকে ভরতি করার পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিধায়কের কথায়, “একজন রক্তাক্ত, গুরুতর জখম রোগীর চিকিৎসার জন্য ওপরতলার অনুমতির অপেক্ষা করতে হচ্ছে, এর চেয়ে লজ্জাজনক আর কী হতে পারে! বেলভিউয়ের আইটিইউ-তে (ITU) চিকিৎসাধীন থাকা সত্ত্বেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য বাধ্য করা হচ্ছে।”
এই ঘটনার গভীরতা বোঝাতে গিয়ে দেশের ইতিহাস থেকে রাজীব গান্ধী হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে আনেন বেলেঘাটার বিধায়ক। তিনি বলেন, “অতীতে ভিপি সিং সরকারের আমলে তৎকালীন বিজেপি ও বামেদের যোগসাজশে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছিল। যার চড়া মূল্য দিতে হয়েছিল তাঁর প্রাণ দিয়ে। আজ অভিষেকের নিরাপত্তা উধাও হওয়া এবং দীর্ঘক্ষণ তাঁকে হামলাকারীদের সামনে ফেলে রাখার ঘটনাও সেই একই চক্রান্তের স্পষ্ট ইঙ্গিতবাহী।” দলীয় নেতৃত্বের তরফে এই ‘পরিকল্পিত হীন চক্রান্তে’র বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়ে কুণাল ঘোষ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই বিষয়ে দল অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে আইনি ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ করতে চলেছে। আপাতত সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার মাধ্যমে দলের শীর্ষ নেতা যাতে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন, সেটাই তাঁদের প্রথম অগ্রাধিকার।
আরও পড়ুন- জন্ম নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেবে সরকার: মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ শমীকের
_
_

_

_

_

_

