সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে নিন্দার ঝড়। এই বর্বরোচিত ঘটনার প্রতিবাদে এবার সরব হলেন বাম এবং বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব। সিপিআই-এর সাধারণ সম্পাদক ডি রাজা এবং প্রবীণ আইনজীবী তথা রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিবাল—উভয়েই এই হামলার তীব্র নিন্দা করে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন বিজেপিকে।
সিপিআই সাধারণ সম্পাদক ডি রাজা এই ঘটনার পেছনে বিজেপির দিকেই আঙুল তুলেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, শাসকদল হিসেবে বিজেপি এই ঘটনার দায় কোনওভাবেই অস্বীকার করতে পারে না। তাঁর মতে, নির্বাচন পরবর্তী হিংসা পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও বিরক্তিকর করে তুলেছে, যার বিরুদ্ধে সমবেতকণ্ঠে প্রতিবাদ হওয়া প্রয়োজন। ডি রাজা বলেন, একটি গণতান্ত্রিক কাঠামোয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ওপর দৈহিক আক্রমণ বা ভাঙচুরের মতো ঘটনার কোনও স্থান হতে পারে না। নির্বাচনের আসল অর্থ হলো জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানো, হিংসার মাধ্যমে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি করা নয়।
এখানেই শেষ নয়, বাংলায় পরিস্থিতি বিপজ্জনক দিকে মোড় নেওয়ার জন্য বিজেপিকেই সরাসরি দায়ী করেছেন এই বাম নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, গেরুয়া শিবিরের প্ররোচনাতেই রাজ্যে ক্রমশ উত্তেজনা বাড়ছে। বর্তমানে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মূল দায়িত্ব তাদের ওপর থাকলেও, তারা উল্টে নিজেদের সমর্থকদেরই প্রশ্রয় দিচ্ছে। যার ফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক কার্যালয় আক্রমণ করা হচ্ছে, লেনিনের মূর্তি ভাঙা হচ্ছে এবং জনগণের নানা প্রতীক নষ্ট করার মতো ঘটনা ঘটছে।
অন্যদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিবালও। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি লেখেন, বিজেপি মুখে এবং কাজে—সবদিক থেকেই হিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাসী। অভিষেকের ওপর এই নিন্দনীয় হামলা আরও একবার প্রমাণ করে দিল যে বিজেপি আসলে গুন্ডা-বদমাইশে ভরপুর একটি দল। এদের সঙ্গে সনাতন ধর্মের কোনও সম্পর্ক নেই এবং এরা আদতে অধর্মের পথেই চলে। সোনারপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতির অলিন্দেও যে পদ্ম শিবিরের ওপর চাপ বাড়ছে, তা বিরোধী নেতাদের এই কড়া প্রতিক্রিয়াতেই স্পষ্ট।
আরও পড়ুন- IPL: মেগা ফাইনালে কিং কোহলিই, টানা দ্বিতীয়বার খেতাব জয় আরসিবির
_
_
_

_
_

_
