দায়িত্বভার গ্রহণের এক মাসের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করলেন দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি গৌতম আদানি। বুধবার নবান্নে আয়োজিত এই বৈঠকটি প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে চলে। বৈঠকে গৌতম আদানির পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন তাঁর পুত্র তথা আদানি পোর্ট ও স্পেশাল ইকোনমিক জোনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর করণ আদানিও। বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর থেকেই বিজেপি রাজ্যে শিল্প পুনর্গঠনের যে বার্তা দিচ্ছিল, এই বৈঠক তারই প্রথম ইতিবাচক ধাপ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

নবান্ন সূত্রে খবর, বুধবার বিকেলের পর আদানি গোষ্ঠীর এই পিতা-পুত্র মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসেন। মূলত রাজ্যে নতুন পাওয়ার প্ল্যান্ট, বিদ্যুৎ সংযোগ, আধুনিক লজিস্টিক হাব এবং রাস্তাঘাটের মতো পরিকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে আদানিদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। শিল্পমহল সূত্রে জানা যাচ্ছে, এ রাজ্যে বৃহৎ বন্দর ও বিশ্বমানের ডেটা সেন্টার স্থাপনের বিষয়েও আদানি গোষ্ঠী অত্যন্ত আগ্রহী। মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই মুহূর্তে তাঁর সরকারের প্রধান লক্ষ্য রাজ্যে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, যার জন্য সবরকম প্রশাসনিক সহযোগিতা করা হবে।

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে আদানি গোষ্ঠীর বিনিয়োগের চেষ্টা অবশ্য এবারই প্রথম নয়। এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালেও একাধিকবার নবান্নে এসে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন গৌতম আদানি। পূর্ব মেদিনীপুরের তাজপুরে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ নিয়ে সেই সময় দ্বিপাক্ষিক আলোচনাও বেশ খানিকটা এগিয়েছিল। তবে রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর শিল্পপতিদের এই স্বতঃস্ফূর্ত তৎপরতা বাংলার বন্ধ দুয়ার খুলতে পারে কিনা, সেটাই এখন দেখার। এদিনের বৈঠকটি প্রাথমিক স্তরের হলেও, খুব শীঘ্রই সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করতে আদানি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে রাজ্য সরকার পুনরায় বৈঠকে বসবে বলে নবান্ন সূত্রের খবর।

