হিসাব বহির্ভূত অর্থ খরচ করেছে অসমের হিমন্ত বিশ্বশর্মার (Himanta Biswa Sarma) বিজেপি সরকার (BJP Govt.)। সম্প্রতি ক্যাগ রিপোর্টে (CAG Report) তা নিয়ে দুর্নীতি স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আর এবার সরাসরি অসমে বেড়ে চলা ঋণের পরিমাণ নিয়ে সোজা আদালতে মামলা। মামলাকারী যে তথ্য গুয়াহাটি হাই কোর্টে পেশ করেছেন, তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খোদ হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি। গোটা ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি অসম সরকারের জবাব তলব করেছে আদালত। বাংলায় নির্বাচনী প্রচারে অসম নিয়ে ভারী ভারী কথা বলা হিমন্ত বিশ্বশর্মার প্রশাসন এবার এই প্রশ্নের কী উত্তর দেন, সেটাই দেখার অপেক্ষা।

অসমের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ প্রায় নেই। এই পরিস্থিতিতে অসম সরকারের আর্থিক নীতি, ক্রমবর্ধমান ঋণ এবং বাজেটে কারচুপির অভিযোগে দায়ের হয়েছে একটি জনস্বার্থ মামলা। অসম ফিসকল রেসপন্সিবিলিটি অ্যান্ড বাজেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৫’ (AFRBM Act)-এর নিয়মাবলী রাজ্য সরকার ক্রমাগত লঙ্ঘন করছে — এই মর্মে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন আইনজীবী রীতম সিং। তিনি আইনজীবী হওয়ার পাশাপাশি অসম কংগ্রেসের একজন মুখপাত্রও।

Sir, with due respect. I had filed a PIL in the Gauhati High Court today to burst your myths. And some stats & figure are really concerning:
Assam’s GSDP growth rate during your tenure was 15% (compounded) while our Interest liability rate was 17% (avg)
Assam needs to repay 99%… https://t.co/kHSYOxDXWX
— Reetam Singh (@SinghReetam) June 5, 2026
দায়ের করা মামলায় তুলে ধরা হয়েছে, অসমের যে ঋণ রয়েছে তার ৯৯ শতাংশ আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে দিয়ে দিতে হবে। অথচ ইতিমধ্যেই এই বিপুল ঋণের সুদ মেটাতে অতিরিক্ত ঋণ নিতে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অসম সরকারের পক্ষে মূল ঋণ – ১.৭৭ লক্ষ কোটি টাকা হিমন্ত বিশ্বশর্মা প্রশাসনের পক্ষে চোকানোই সম্ভব নয়। রীতম অভিযোগ তোলেন, বিগত বছরগুলোতে সরকার একটি বছরও ‘রাজস্ব ঘাটতি’ (Revenue Deficit) শূন্যে নামাতে পারেনি।

আইনের উল্লেখ করে মামলাকারী দাবি করেন, অসমের আইন অনুযায়ী উন্নয়নমূলক প্রকল্পের জন্য ঋণ নেওয়া আইন বিরুদ্ধ। উন্নয়নমূলক প্রকল্পের জন্য টাকা সরকারের উপার্জন থেকেই ধার্য করার কথা। কিন্তু উন্নয়নের খরচ হিসাবে অর্থের প্রয়োজনে ঋণ করেই গিয়েছে হিমন্ত প্রশাসন। এমনকি তিনি অভিযোগ করেন, যেভাবে হিমন্ত বিশ্বশর্মা ঋণ করেছেন, তাতে অসমে জন্মানো শিশুদের মাথার উপর ৫০ বছরের ঋণ চেপেছে। যদিও এই বিষয়ে সরকারকে উত্তর দিতে দীর্ঘ সময় দিয়েছে গুয়াহাটি হাই কোর্ট। মামলার পরবর্তী শুনানি ১৬ সেপ্টেম্বর। সেইদিনই রাজ্য সরকারকে তাদের উত্তর পেশ করতে হবে।

–

–

–

–
–
–
