ক্ষমতার পালাবদলের পর নবান্নে (Nabanna) প্রশাসনিক কাজ, মানুষের সমস্যার সমাধানের বদলে এখন শুরু হয়েছে ‘শুদ্ধিকরণ পর্ব’। সরকারি দফতরে (Govt. Department) ফাইলের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে গঙ্গাজল, উন্নয়নের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে যজ্ঞ-যাপন। যে নবান্ন একসময় রাজ্যের প্রশাসনিক স্নায়ুকেন্দ্র ছিল, সেখানে এখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রমাণভিত্তিক লড়াইয়ের বদলে চলছে প্রতীকী নাটক আর রাজনৈতিক প্রদর্শনী।

পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যবহৃত ঘরে ঢোকার আগে গঙ্গাজল ছিটিয়ে পুজো, প্রাক্তন মন্ত্রীর চেয়ার সরিয়ে নতুন চেয়ার বসানোর দাবি— এসব ঘটনাই প্রশ্ন তুলছে, রাজ্য চালাতে এসেছে সরকার, নাকি নবান্নকে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মঞ্চে পরিণত করতে? দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই যদি সত্যিই উদ্দেশ্য হয়, তাহলে তার জায়গা আদালত, তদন্তকারী সংস্থা এবং প্রশাসনিক সংস্কারে। কিন্তু বিজেপি সরকারের মন্ত্রীরা যেন সেই পথ ছেড়ে প্রতীকী ‘ভূত তাড়ানোর’ রাজনীতিতেই বেশি আগ্রহী।

সমালোচকদের কটাক্ষ, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে এখন নবান্নে চলছে ‘গঙ্গাজল থেরাপি’। কর্মসংস্থান, শিল্প, কৃষি, শিক্ষা বা স্বাস্থ্য নিয়ে বড় কোনও রূপরেখা সামনে না এনে নতুন সরকার যেন মানুষের নজর ঘোরাতে ব্যস্ত প্রতীকী কর্মসূচিতে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, নবান্ন কি প্রশাসনের সদর দফতর, নাকি যাগ-যজ্ঞের আখড়া?

বিরোধীদের অভিযোগ আরও তীব্র। তাঁদের বক্তব্য, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনিক দক্ষতার বদলে কুসংস্কার, প্রতীকী ধর্মীয়তা এবং রাজনৈতিক প্রচারকেই শাসনের হাতিয়ার করতে চাইছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রকৃত পদক্ষেপের বদলে গঙ্গাজল ছিটিয়ে ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে। কিন্তু গঙ্গাজলে ঘর ধোয়া যায়, প্রশাসনের ব্যর্থতা ধোয়া যায় না। চেয়ার বদলানো যায়, কিন্তু মানুষের প্রত্যাশার বোঝা বদলানো যায় না। আর সেই কারণেই নবান্নে পুজোর ধোঁয়া যতই উঠুক, শেষ পর্যন্ত মানুষের বিচার হবে কাজের নিরিখেই।

–

–

–

–
–
–
