নারী সুরক্ষার একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে নতুন সরকার। কিন্তু খোদ শাসকের সেই আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতির পরেও রোখা যাচ্ছে না বেপরোয়া অপরাধীদের। এবার উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়ায় এক যুবতীকে গণধর্ষণের ঘটনায় ফের নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজ্য রাজনীতি। দুর্গাপুর, দিনহাটা, রায়গঞ্জ, নদিয়া বা বেহালার সরশুনার পর এবার হাড়োয়ার এই ঘটনা বিজেপি সরকারের জমানায় নারী নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। ঘটনার জেরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিরোধীদের প্রশ্ন, আজ কোথায় গেলেন রাজ্যের সেই সব বুদ্ধিজীবীরা? কেন আজ আর প্রতিবাদীদের রাত জাগার ডাক শোনা যাচ্ছে না?

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে বসিরহাট মহকুমার হাড়োয়া থানা এলাকায় বছর পঁয়ত্রিশের এক যুবতীর উপর পাশবিক অত্যাচার চালায় চার দুষ্কৃতী। ঘটনার পর থেকেই গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওই নির্যাতিতা। পারিবারিক সূত্রে খবর, স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বাপের বাড়িতেই থাকতেন ওই যুবতী। শুক্রবার রাতে বাড়ির অন্যান্য সদস্যরা বাইরে থাকায় তিনি একাই ছিলেন। অভিযোগ, সেই নির্জনতার সুযোগ নিয়েই এলাকার চার যুবক হুড়মুড়িয়ে ঘরে ঢুকে যুবতীর হাত-মুখ বেঁধে গণধর্ষণ করে।
পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ফিরে যুবতীকে অচৈতন্য ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। নির্যাতিতার মুখে গোটা ঘটনা শোনার পরেই রাতেই হাড়োয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পেয়েই তৎপরতার সঙ্গে তদন্তে নামে পুলিশ। রাতেই হাড়োয়ার বিভিন্ন এলাকায় হানা দিয়ে সঞ্জীব কাহার এবং খোকন কাহার নামে দুই মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। তবে এই ঘটনায় জড়িত আরও দুই অভিযুক্ত রাজু কাহার ও তার এক সঙ্গী এখনও পলাতক। তাদের খোঁজে নাকা চেকিং ও তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
ধৃতদের শনিবার বসিরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। হাড়োয়া থানার এক আধিকারিক জানান, ধৃতদের জেরা করে বাকি পলাতকদের হদিশ পাওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে নির্বাচনের আগে যাঁরা রাজ্যে নারী সুরক্ষার বিকল্প মডেলের কথা বলে ক্ষমতায় এসেছিলেন, তাঁদের জমানাতেই একের পর এক এমন নারকীয় ঘটনায় নবান্নের অন্দরেও অস্বস্তি বাড়ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
আরও পড়ুন- দৃষ্টিহীনের সুরের লড়াই! রূপোলি পর্দায় দৃষ্টিহীনদের যাপনচিত্র নিয়ে এল ‘আঁখি’
_
_
_

_
_

_
