ঈদে ‘না’, যোগ দিবসে সেই রেড রোড আটকেই প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান!

Date:

Share post:

সাধারণ মানুষের অসুবিধা করে কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠান করা যাবে না। বাংলায় ক্ষমতা দখলের পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপির নতুন সরকার প্রথম এই সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে ঈদ-উল-আদার (Eid) নমাজ (Namaj) রেড রোডে (Red Road) পড়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। যা নিয়ে গোটা বিশ্বে আলোচনা হয়েছিল। কার্যত ইতিহাস বদলে দেওয়া সিদ্ধান্ত যে নাগরিক স্বাচ্ছন্দের জন্য নেওয়া হয়েছিল, এবার যোগ দিবসে (International Yoga Day) সেই সিদ্ধান্তই বদলে গেল বাংলার বিজেপির শাসনে। ২১ জুন যোগ দিবসের অনুষ্ঠান রেড রোডেই (Red Road) হবে বলে সরকারি সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হল রাজ্য প্রশাসনের তরফে।

আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) উপস্থিতিতে রেড রোডেই প্রায় ৩০ হাজার মানুষের জমায়েতের আয়োজন করছে। শুধু তাই নয়, ভোর থেকে কয়েক ঘণ্টা ধরে চলবে অনুষ্ঠান, থাকবে নিরাপত্তার কড়াকড়ি, যান নিয়ন্ত্রণ এবং বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা। সরকার যোগ দিবসকে আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন অনুষ্ঠান বলে ব্যাখ্যা করছে। ফলে যোগ দিবসের প্রস্তুতির পাশাপাশি সমানভাবে চর্চায় রেড রোডের রাজনীতি।

মাত্র কয়েকদিন আগেই প্রশাসনের তরফে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, রেড রোডে বৃহৎ জমায়েত হলে যান চলাচল ব্যাহত হবে, সাধারণ মানুষের অসুবিধা হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘক্ষণ বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। সেই যুক্তি দেখিয়েই কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ঈদের (Eid) নামাজকে রেড রোড থেকে সরিয়ে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। সরকারের বক্তব্য ছিল, জনস্বার্থ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সমালোচকদের অভিযোগ, এটি নিছক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং রাজনৈতিক পছন্দ-অপছন্দের প্রতিফলন। তাঁদের দাবি, একদিকে একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বহু বছরের ঐতিহ্যবাহী সমাবেশকে ‘ট্রাফিক সমস্যা’র কারণ দেখিয়ে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারের পছন্দের কর্মসূচির জন্য একই জায়গা উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

আরও পড়ুন : উত্তরপ্রদেশ SIR-এর ‘সুফল’, ভোটার তালিকা থেকে বাদ স্মৃতির নাম!

রাজ্যের বিজেপি নেতাদের দাবি, মানুষের স্বাচ্ছন্দের জন্য রাস্তা আটকে ধর্মীয় কর্মসূচিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। যোগ করা হয় মানুষের স্বাচ্ছন্দের জন্যই। তাই যোগ দিবসের অনুষ্ঠান রেড রোডে হওয়া নিয়ে কোনও বিতর্কই হতে পারে না। সেখানেই প্রশ্ন উঠেছে এটি কী প্রশাসনিক যুক্তি, নাকি রাজনৈতিক দ্বিচারিতা?

spot_img

Related articles

যুব তৃণমূল সভানেত্রীর পদ থেকে সায়নীর বিদায়: গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কুণাল

নতুন করে সংগঠনকে সাজিয়ে তুলছেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই পথে একগুচ্ছ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। শনিবার নেত্রীর বাসভবনে...

স্মার্ট মিটার বাধ্যতামূলক! রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় সরব যৌথ মঞ্চের নেতা ভাস্কর

সরকারি কর্মীদের বাড়িতে স্মার্ট মিটার বাধ্যতামূলক! রাজ্যের তহবিল থেকে যাঁরা বেতন, সাম্মানিক বা পারিশ্রমিক পান— সেই সমস্ত শিক্ষক,...

নতুন সরকারের ‘অনভিজ্ঞতা’ ঢাকতে তৎপর নবান্ন, মন্ত্রীদের জন্য এটিআই-এ ‘ক্র্যাশ কোর্স’

ক্ষমতায় এসেছে নতুন সরকার। কিন্তু মন্ত্রিসভার একটি বড় অংশেরই নেই কোনও পূর্বতন প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা। এই পরিস্থিতিতে নতুন মন্ত্রীদের...

সুদীপ এখন শুধুই ‘বোঝা’! বেসুরো সাংসদকে তীব্র কটাক্ষ তাপসের

কুণাল ঘোষের পর এবার বেসুরো সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে 'বোঝা' বলে কটাক্ষ করলেন বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়। তৃণমূল কংগ্রেসে থাকাকালীন...