প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কালীঘাটের বাড়ির সামনে সোমবার বিকেলে সংবাদ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেওয়ার সময় আক্রান্ত হন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। রাতেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কালীঘাট থানায় FIR করেন বিধায়ক। মঙ্গলবার, দুই আক্রমণকারী রবি সিং (Ravi Singh) ও চন্দন কয়ালকে (Chandan Kayal) গ্রেফতার করল পুলিশ (Police)।

সোমবার তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বাড়ির বৈঠক সেরে বেরিয়ে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার সময় কুণালকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়। এটা কোনও বিক্ষোভ নয়, পরিকল্পিত “বাঁদরামি, অসভ্যতা” বলে গর্জে ওঠেন তৃণমূল বিধায়ক তথা দলের উত্তর কলকাতার সভাপতি। তাঁর কথায়, “আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম। হাতের কাছে পেয়ে ডিম মেরে পালিয়েছে। এক মাঘে শীত যাবে না।” তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে কুণাল বলেন, ”এগুলো বাঁদরামি, অসভ্যতামি। কিসের ক্ষোভ! পরিকল্পনা করে বাঁদরামি করা হচ্ছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে নিরাপত্তা থাকে। ছেলেগুলো ডিম ছুড়ল এবং তাদের চলে যেতে দেওয়া হল!” প্রশ্ন ওঠে, একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে যেখানে জেড প্লাস নিরাপত্তা বলয় রয়েছে, সেখানে এ ধরনের ঘটনা ঘটে কী করে? একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির উপর এই আক্রমণ আগে থেকে কেন সামলাতে পারল না পুলিশ? ডিমের জায়গায় পাথর বা বম্ব যা কিছু হতে পারত- সে ক্ষেত্রে তো প্রাণ সংশয় হতে পারত- তাহলে কেন প্রশাসন আগে থেকে সতর্ক হল না কেন!

সোমবার রাত সোয়া ১১ টায় কালীঘাট থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে FIR করেন কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। দোষীর অবিলম্বে গ্রেফতার দাবি করেন তিনি। পরে নিজের স্যোশাল মিডিয়া পোস্টে অভিযুক্ত চন্দনের পরিচয় সম্পর্কে তৃণমূল বিধায়ক জানান, ”শুনলাম ডিমছোঁড়া বাঁদরটা নাকি মমতাদির বাড়ি সিআইডি রেডের সময় পুলিশের উইটনেস ছিল। সিজার লিস্টেও নাকি ওরই সই। তাহলে কি ওই বাড়িকে ঘিরে হামলার রেইকি করানো হয়েছিল? Z ক্যাটাগরির নিরাপত্তার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ঘিরে এসব কী? আজ যারা আক্রমণ করল, গ্রেপ্তার চাই। ওই ছেলেটাই উইটনেস হিসেবে ঢুকেছিল কিনা, তদন্ত হোক। যদি তাই হয়, তাহলে মমতাদি নিরাপদ নন। তাঁর বাড়ি ঘিরে কোনো খারাপ পরিকল্পনা চলছে।”

এদিন সকালেই তৃণমূল বিধায়ককে আক্রমণের ঘটনায় চন্দন ও রবিকে গ্রেফতার করল পুলিশ।

–

–

–

–
–
–
