তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ! রাজ্য পুলিশের সাইবার সেলে চিঠি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের। যেখানে সব মিলিয়ে রয়েছে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা। বিধাননগর দক্ষিণ থানায় ‘ঋতপন্থী’ ১০ তৃণমূল বিধায়কের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্য পুলিশের সাইবার সেল এই পদক্ষেপ করেছে বলে খবর। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের তরফে ইতিমধ্যেই এই সিদ্ধান্তের কথা পুলিশকে চিঠির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আপাতত ওই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে কোনও রকম লেনদেন করা যাবে না। প্রসঙ্গত, দিন কয়েক আগে তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার দাবি জানিয়ে ব্যাঙ্ককে চিঠি লিখেছিলেন অরূপ বিশ্বাস। তাঁর সেই অবস্থানকে সমর্থন জানান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এই টানাপড়েনের মধ্যেই শুক্রবার বিধাননগর দক্ষিণ থানায় ‘ঋতপন্থী’ ১০ বিধায়ক অবিলম্বে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আর্জি জানান। এরপরই সক্রিয় হয় সাইবার সেল।
এই প্রসঙ্গে বিদ্রোহী বিধায়কদের তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তোলেন, “ঋতব্রত সহ বিক্ষুব্ধরা আগে বলুন, মাসখানেক আগেও ভোটের সময় তৃণমূলের এই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে তাঁদের অ্যাকাউন্টে কোনও টাকা গিয়েছিল কি না? যদি গিয়ে থাকে, তবে অবিলম্বে সেই টাকা আগে তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে ফেরানো হোক।” এখানেই থামেননি কুণাল। সুর আরও চড়িয়ে তিনি বলেন, তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে যদি অবৈধ টাকাই থাকে, তবে সেই টাকা খরচ করে জিতে আসা বিধায়কদের নীতিগতভাবে সদস্যপদই থাকা উচিত নয়! আগে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করুন, না হলে বোঝা যাবে দলনেত্রীকে অন্ধকারে রেখে শুধুমাত্র অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করাই ছিল এঁদের মূল উদ্দেশ্য।
তৃণমূল শিবিরের দাবি, গত ৫ জুন শুভাশিস চক্রবর্তীকে নতুন কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ করা হয়েছে এবং সেই সংক্রান্ত চিঠিও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে। ফলে অরূপ বিশ্বাসের দাবি ধোপে টিকার কথা নয়। অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়ার কারণে কিছুটা সমস্যা হলেও, আপাতত দলের সাংসদেরা নিজেদের তহবিল থেকে টাকা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেবেন এবং এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত আদালতে যাওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন- বিরোধী দলনেতা বিতর্ক: সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে শোভনদেব
_
_

_

_

_

_

_

