২০২৬-২০২৭ অর্থবর্ষে (West Bengal Budget 2026-2027) বিজেপি সরকারের প্রথম রাজ্য বাজেট পেশ করে একাধিক নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। মূলত শিক্ষিত কর্মহীন যুবসমাজ এবং উচ্চশিক্ষার স্তরে ছাত্রীদের পড়াশোনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এই প্রকল্পগুলি আনা হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আগামী অক্টোবর মাস থেকে এই নতুন প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন শুরু হতে চলেছে।

তৃণমূল সরকারের আমলে শিক্ষিত যুবকদের ‘যুবসাথী’ প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। নির্বাচনের পড়ে সেই প্রকল্প পাওয়া যাবে কি না এই নিয়ে সংশয়ে ছিলেন অনেকেই। তবে বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, রাজ্যে ‘ভরসা কর্মসূচি’ নামে একটি নতুন প্রকল্প চালু করা হচ্ছে। এর অধীনে ২১ থেকে ৪৫ বছর বয়সি যোগ্য, শিক্ষিত ও কর্মহীন যুবক-যুবতীদের নির্দিষ্ট নিয়মে মাসিক ভাতা দেওয়া হবে। স্নাতক (গ্র্যাজুয়েট) উত্তীর্ণদের জন্য মাসিক ৩,০০০ টাকা। অন্যান্য যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য মাসিক ২,০০০ টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এটি তাঁরাই পাবেন যারা অন্য সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না এবং পরিবারের আয় বছরে ১ লাখ টাকার কম।

সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির খরচ সামাল দিতে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে নিখরচায় কোচিং-এর ব্যবস্থা করার কথা জানানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজ্যের প্রতিটি জেলায় বিনামূল্যে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার কোচিং সেন্টার গড়ে তোলা হবে। এর পাশাপাশি, সরকারি ও সরকারপোষিত কলেজের যে শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁদের জন্য এককালীন ৩০,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই খাতে বাজেটে ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়াও উচ্চশিক্ষা ছাত্রীদের ড্রপ আউট কমাতে নতুন এই স্কিম চালু করছে রাজ্য সরকার। এই স্কিমে অবিবাহিত ছাত্রীরা এককালীন ৫০,০০০ টাকা সহায়তা দেওয়া হবে। সরকার বা সরকারি পোষিত কলেজে আন্ডার গ্র্যাজুয়েট কোর্সে ভর্তির সময়ে ছাত্রীদের জন্য এই প্রকল্পের সুবিধা মিলবে। এই প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকার এই বাজেটে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।

শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং, দক্ষিণ দিনাজপুর ও পশ্চিম বর্ধমান জেলাতে নতুন মেডিক্যাল কলেজ তৈরি করবে রাজ্য। এছাড়াও ১৩ টি রাজ্য সরকারি মেডিক্যাল কলেজের প্রায় ৬৫০টি এমবিবিএস আসন এবং ৪৫০টিরও বেশি পিজি আসন বাড়াতে পরিকল্পনা চলছে।

–

–

–

–
–
–
