চরম গাফিলতি! জ্বলছে বিল্ডিং কিন্তু পালানোর পথ নেই। নীচে নামার একমাত্র (Lucknow Fire Tragedy) সিঁড়ি ধোঁয়া ও আগুনের গ্রাসে। জানলা থেকেই লাফ দিয়েছেন একাধিক পড়ুয়া। কোচিং ও অ্যানিমেশন ইনস্টিটিউটে পড়তে এসে ঝলসে গেল ১৫টি তরতাজা প্রাণ। কিন্তু অদ্ভুতভাবে তদন্তে নেমে উঠে আসছে একাধিক অনিয়ম। উত্তর লখনৌয়ের ঊষা মেহতা মার্গের যে তিন তলা বিল্ডিংয়ে আগুন লাগে, সরকারি নথি অনুযায়ী সেটি রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিং। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে সেখানেই চলছিল একাধিক ব্যবসা। কীভাবে নজর এড়াল প্রশাসনের? আরও পড়ুন: ৩ মাস ধরে নিখোঁজ, দুর্গাপুরের পড়ুয়া তরুণীর খোঁজ মিলল বিধাননগরে

খোঁজ নিয়ে দেখা গেল, লখনৌ ডেভেলপমেন্ট অথরিটি এবং পুরসভার কর সংক্রান্ত নথিতেও এই বিল্ডিংকে বসতবাড়ি হিসেবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু ২০১৪ সালের পর অর্থাৎ বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সেখানে বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হয়। বিল্ডিংয়ের বিভিন্ন অংশে দোকান, পোষ্য প্রাণীর ক্লিনিক এবং উপরের তলায় অ্যানিমেশন ও কোচিং সেন্টার চালানো হচ্ছিল। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, প্রায় ১,৯৯২ বর্গফুট জায়গার উপর তৈরি এই বিল্ডিংয়ের মালিকানা অনেকবার বদলেছে। ২০১৪ সালে নতুন মালিকদের নামে বাড়ি হওয়ার পরে আবাসিক বাড়ি তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জানা গিয়েছে, পরে নিয়ম না মেনে বাড়ি তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৬ সালে বাড়ি ভাঙার নির্দেশ জারি হয়। যদিও মাত্র দুই মাসের মধ্যে কোন এক অজ্ঞাত কারণে সেই নির্দেশ প্রত্যাহার করা হয়। বাড়ি ভাঙা আটকানোর সিদ্ধান্ত কার সেটা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিন্তু এমন এক দুর্ঘটনার দায় কার?

আশ্চর্যের বিষয়, ব্যবসায়িক কারণে ব্যবহার হলেও গোটা বিল্ডিংয়ের কোনও ফায়ার এক্সজ়িট ছিল না। ঢোকা ও বেরোনোর জন্য ছিল একটি মাত্র রাস্তা। তাই, সিঁড়ি আগুন ও ধোঁয়ায় ভরে যাওয়ায় বিল্ডিং থেকে বের হওয়া সম্ভব হয়নি। কয়েকজন বাইরের দরজা পর্যন্ত গেলেও অটোমেটিক দরজা কাজ না করায় ভেতরেই আটকে পড়ে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

–

–

–

–

–
