কালীকে খুঁজলে সব বেরিয়ে যাবে- তারাতলার বিপর্যয় নিয়ে বিধানসভায় বিবৃতিতে দিতে গিয়ে কার নাম বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)! তারাতলায় নির্মীয়মান গোডাউন বিপর্যয়ের (Taratala Disaster) ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বিবৃতি দেন মুখ্যমন্ত্রী। নিশানা করেন প্রাক্তন মেয়রকে। আর সেখানেই বলে গিয়ে কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে কালীর কথা বলেন তিনি।

কে এই কালী?
তারাতলার বিপর্যয় নিয়ে বিধানসভায় প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে (Firhad Hakim) নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, “এটা আপনাদের পাপের ফল। সিটি অফ জয় আর বৃহত্তর কলকাতাকে আপনারা মৃত্যুপুরী বানিয়েছেন। সব জায়গা থেকে টাকা নিয়েছেন। কাউকে ছাড়া হবে না।“ গোডাউনের ত্রুটিপূর্ণ প্ল্যান পাশ করেছিলেন প্রাক্তন মেয়র অভিযোগ করে ফিরহাদের স্বাক্ষরিত কাগজ তুলেও দেখান মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari)। সেখানেই তিনি বলেন, “আপনার কেএমসি-তে কী হয়েছে জানি না! কালীকে খুঁজলে সব বেরিয়ে যাবে৷“

কলকাতার মেয়র ফিরহাদের প্রাক্তন OSD এবং আপ্তসহায়ক কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalicharan Banerjee) বর্তমানে এমপি ল্যাড ম্যানেজার৷ ২০১০-এ কলকাতা পুরসভার সোশ্যাল সেক্টর বিভাগে চিফ ম্যানেজার পদে যোগ দেন তিনি। ২০১৮-তে ফিরহাদ হাকিম মেয়র হলে তাঁর OSD হিসেবে কার করেন।

কালীচরণের বিরুদ্ধে তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banrjee) নাম ভাঙিয়ে তোলাবাজি ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ২০২৪-এর সেপ্টেম্বরে ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরের কর্মী অয়ন ঘোষ দস্তিদার এই বিষয়ে শেক্সপিয়র সরণি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরও করেন৷

যদিও সেই সময় ফিরহাদ বলেছিলেন, “আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না। সংবাদমাধ্যম থেকে এইমাত্র জানতে পারলাম। যদি এমন কোনও অভিযোগ থাকে, আমাকেই তো বলতে পারত। আমি বিভাগীয় তদন্তের ব্যবস্থা করতাম।“

এদিন সেই কালীচরণের নামই করেন মুখ্যমন্ত্রী। সরাসরি প্রাক্তন মেয়রকে নিশানা করে বলেন, “এই দেখুন ফিরহাদ হাকিমের সই। স্ট্রাকচারে গাফিলতি থাকা সত্ত্বেও সই করেছে৷ নকশায় গাফিলতি আছে।“ তারাতলা বিপর্যয়ে ইতিমধ্যেই ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে করেছে পুলিশ। তাঁদের সম্পর্কে বলে গিয়ে শুভেন্দু জানান, “কলকাতা কর্পোরেশনে কালী না বললে কোনও প্ল্যান হয় না। আর কালী অ্যাপয়েন্টটেড বাই ক্যামাক স্ট্রিট। এই কালী বাইপাসের পাশে তৃণমূল ভবন বানাচ্ছে ২০০ কোটি টাকা দিয়ে। আর এখান থেকে টাকাটা তুলে ওখানে পাঠায়। কী করে এইসব লোক এই সব জায়গায় ঢোকে বের করতে হবে৷ সব বের করেছি আমরা। এফআইআর হয়েছে। ব্যবস্থা নিচ্ছি।“

–

–
–
–
