ভোটের আগে ‘বেটি বাঁচাও’ স্লোগান দিয়ে মাঠ কাঁপানো বিজেপি যে নারী নিরাপত্তা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ, তা আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল। এবার খোদ শিলিগুড়িতে এক মূক ও বধির মহিলাকে গণধর্ষণ করে রাস্তার ধারে ফেলে দিয়ে গেল চার দুষ্কৃতী! এই নৃশংস ঘটনার তিন দিন কেটে গেলেও এখনও অধরা সমস্ত অপরাধী। পুলিশের এই চরম নিষ্ক্রিয়তা এবং ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে বসে থাকার বিরুদ্ধে উত্তরবঙ্গে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা মহিলা শিলিগুড়ির হাকিমপাড়ার একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হোমে থাকতেন। তাঁর আসল বাড়ি রবীন্দ্রনগরে। মাঝে মধ্যে তিনি পরিবারের লোকজনের সঙ্গে দেখা করতে বাড়ি যেতেন। গত ২২ জুন ওই মহিলা হোম থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের পরেও তিনি যেমন বাড়ি পৌঁছননি, তেমনই হোমেও ফিরে আসেননি। দীর্ঘক্ষণ খোঁজখবরের পর কোনও হদিস না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে শিলিগুড়ি থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।

এর পর গত বুধবার দুপুরে তিনবাত্তি মোড় সংলগ্ন একটি পেট্রল পাম্পের কাছ থেকে ওই মহিলাকে উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্য এবং ওই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা সেখানে পৌঁছন। প্রথমে আতঙ্কে বাকরুদ্ধ হয়ে থাকা ওই মহিলা কিছুই বলতে পারছিলেন না। পরবর্তীতে ওই সংস্থার বিশেষ শিক্ষিকারা ইশারা-ইঙ্গিতে তাঁর সঙ্গে কথা বললে, নির্যাতিতা জানান যে চারজন ব্যক্তি তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করেছে এবং শেষে তিনবাত্তি মোড়ে ফেলে দিয়ে চম্পট দিয়েছে।

ঘটনার পরই এনজেপি থানায় খবর দেওয়া হয় এবং নির্যাতিতাকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন শিলিগুড়ির বাসিন্দারা। নিখোঁজ ডায়েরি করার পরেও কেন পুলিশ তৎক্ষণাৎ সক্রিয় হল না, তা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে নির্যাতিতার পরিবার। একই সঙ্গে ওই হোমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে একজন মূক ও বধির আবাসিককে একা ছেড়ে দেওয়া হল। নারী নিরাপত্তা রক্ষায় প্রশাসনের এই ব্যর্থতার বিরুদ্ধে শিলিগুড়ি জুড়ে এখন প্রতিবাদের ঝড়।

আরও পড়ুন- নির্মাণ বন্ধে শ্রমিকদের কী হবে? বিধানসভার করিডরে শুভেন্দুকে প্রশ্ন কুণালের

_

_

_
_
_
_
