আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (R.G.Kar Medical Hospital) চিকিৎসাধীন এক রোগিণীর মেয়েকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চিনার পার্কের (Chinar Park) হোটেলে ধর্ষণ, মারধর এবং ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগ উঠে সেখানে সুরক্ষায় মোতায়েন এক কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের বিরুদ্ধে। এই নারকীয় ট্রমা কাটিয়ে নির্যাতিতা যাতে পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন এবং দোষী জওয়ান পারুল আহমেদ যেন কঠোরতম শাস্তি পায়, সেই আর্জি জানিয়ে সরাসরি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) জরুরি হস্তক্ষেপ ও সাহায্য প্রার্থনা করেছে অসহায় পরিবার এবং তাঁদের আইনজীবী (Lawyer)। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ন্যায়বিচারের আবেদন জানিয়েছেন নির্যাতিতার মা ও ভাই।

আরও পড়ুন: তোলাবাজি থেকে শ্লীলতাহানি- একাধিক অভিযোগে গ্রেফতার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর

গত মাস সাতেক আগে আর জি করে (R G Kar Medical Hospital) মাকে নিয়ে চিকিৎসা করাতে যেতেন অভিযোগকারিনী। পরিবারের দাবি তিনি তখনও নাবালিকা। সেই সময় সুরক্ষায় মোতায়েন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান পারুল আহমেদ (Parul Ahmed) নিজে থেকে তাঁর মোবাইল নম্বর নিয়ে আলাপ জমায়। এরপর বিয়ের প্রতিশ্রুতিও দেয়। গত ৮ই জুন তাঁকে বিয়ের ব্যাপারে কথা বলার নাম করে চিনার পার্কের একটি হোটেলে নিয়ে যায় এবং তারপর তরুণীকে ধর্ষণ করা হয়। নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী, তিনি পালিয়ে আসতে চাইলে তাঁকে প্রবল মারধর করা হয়, গলা টিপে ধরা হয়, হাত ধরে তিনবার ওপর থেকে ফেলে দিয়ে প্রাণে মারার চেষ্টাও চলে। এই পাশবিক অত্যাচারের ভিডিও রেকর্ডিং করে পরবর্তীতে তা ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেয় অভিযুক্ত জওয়ান। বাড়ি ফিরে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে নির্যাতিতাকে প্রথমে মাতৃ সদন ও পরে বিধাননগর সেবা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং নারায়ণপুর থানায় (Narayanpur Police Station) লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ জওয়ান পারুল আহমেদকে গ্রেফতার করে।

নির্যাতিতার পরিবারের মূল অভিযোগ, ধৃত জওয়ান পুলিশ হেফাজতে থাকলেও তদন্ত নিয়ে গড়িমসি করা হচ্ছে। বিধাননগর সেবা হাসপাতাল থেকে তরুণীর অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকা সত্ত্বেও তড়িঘড়ি ছেড়ে দেওয়া হয় এবং পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে উন্নত পরিকাঠামো না থাকায় চিকিৎসকরা তাঁকে আর জি কর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে গুরুতর জখম তরুণী আর জি করের সাইক্রিয়াটিক বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে। পুলিশ এই তদন্তের কোনও রিপোর্ট দেয়নি পরিবারকে। এমনকি আরজিকর হাসপাতাল থেকে আগের চিকিৎসার রিপোর্ট চাইলেও সেবা থেকে কোনও রিপোর্ট দেওয়া হয়নি এবং পুলিশ এই ব্যাপারে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।

এদিকে আদালতের নির্দেশে হাসপাতালে নারী সুরক্ষার জন্য বসানো কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের বিরুদ্ধেই এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠা সত্ত্বেও, স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া পাশে দাঁড়ানো দূরস্ত, পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানাতেই ফোন কেটে দেন বলে অভিযোগ। কেন্দ্রের শাসকদলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের এই উদাসীনতায় নির্যাতিতার পরিবার আশঙ্কা করছে যে, রাজনৈতিক প্রভাবে হয়তো কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই জওয়ানের শেষ পর্যন্ত কোনো শাস্তিই হবে না। নতুন সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যে রাজ্যে একাধিক ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও সুশীল সমাজ বা কোনো সংগঠনের পক্ষ থেকে মশাল মিছিল বা রাতজাগা আন্দোলন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে পরিবারটি স্পষ্ট জানিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের অনুমতি ছাড়া যেসব ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং বিভ্রান্তিকর। এই পরিস্থিতিতে একমাত্র মুখ্যমন্ত্রীই পারেন তাঁদের মেয়েকে সঠিক বিচার এনে দিতে।

–

–

–
