Saturday, June 20, 2026

‘এক দেশ, এক ভোট’: বিল পেশে অনুমোদন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার, তীব্র বিরোধিতা তৃণমূল-সহ বিরোধীদের

Date:

Share post:

ফের সংখ্যার জোরে বিরোধীদের আপত্তি সত্ত্বেও বিল পাশের ছক কষছে কেন্দ্রের মোদি সরকার। বৃহস্পতিবার, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সংসদে ‘এক দেশ, এক ভোট’ বিল (One Nation On Vote Bill) পেশের অনুমোদন করা হয়েছে। সূত্রের খবর, সংসদের চলতি শীতকালীন অধিবেশনেই এই বিষয়ে বিল পেশ করতে পারে কেন্দ্র। এই বিল পাশের বিষয় দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা চালাচ্ছে BJP। বুধবারও এই নিয়ে সুর চড়িয়েছেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান। চৌহান। ‘এক দেশ, এক ভোট’ বিলের তীব্র বিরোধিতা তৃণমূল-সহ বিরোধীদের।

‘এক দেশ, এক নির্বাচন’- কার্যকর হলে সারা দেশে একসঙ্গে লোকসভা, বিধানসভা নির্বাচন হবে। এই নিয়ে বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহারেও জোর দেওয়া হয়েছিল। মোদি সরকারের যুক্তি, বারবার নির্বাচন হলে খরচ বেশি হয়। ফলে ব্যাহত হয় উন্নয়মমূলক কাজ। ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ ব্যবস্থা চালু হলে ভোট প্রক্রিয়ার জন্য যে বড় অঙ্কের খরচ কমে যাবে। একই সঙ্গে বার বার আদর্শ আচরণবিধির জন্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ থমকে থাকবে না। ভোটের কাজ করার জন্য সরকারি কর্মীদের উপরও চাপ কম হবে। ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ (One Nation On Vote Bill) ব্যবস্থা এ দেশে চালু নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। নেতৃত্বে ছিলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। মার্চে সেই কমিটি রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে একটি রিপোর্ট জমা দেয়। সূত্রের খবর, রিপোর্টে একই সঙ্গে একাধিক দফায় লোকসভা, বিধানসভা, পঞ্চায়েত ও পুরসভা ভোট একই সময়ে করানোর কথা বলা হয়েছে।

এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতায় সরব তৃণমূল (TMC)-সহ অবিজেপি দলগুলি। কারণ, এই নীতি দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের আঘাত আনবে। ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ নীতির মাধ্যমে মোদি সরকার ঘুরিয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মতো একটি ব্যবস্থা চালুর ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের।

‘এক দেশ, এক নির্বাচনে’র তীব্র বিরোধিতা করেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তাঁর কথায়, বিজেপি এটা চাপিয়ে দিতে চাইছে। ভারেতর মতো এটা অবাস্তব, অবৈজ্ঞানিক। এতে তৃণমূল কখনও সমর্থন করবে না। ভারতের জাতি বৈচিত্র্যের এইভাবে ‘এক দেশ, এক ভোট‘ কখনই করা যায় না। কুণালের কথায়, যদি হঠাৎ করে সরকার ভেঙে নির্বাচনের প্রয়োজন পড়ে, তাহলে সমস্যা দেখা দেবে। আর এটা শুরু করতে গেলে, কোনও না কোনও রাজ্যে সরকার ভাঙতে হবে। তবে, এই বিলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব নেবেন বলে জানান কুণাল।

CPIM নেতা সুজন চক্রবর্তীও বিরোধিতা করে বলেন, “‘এক দেশ, এক ভোট‘ সম্পূর্ণ ভুল একটা বিষয়। আমাদের দেশে পাঁচ বছর অন্তর ভোট হয় মানুষের আস্থা-অনাস্থাকে মাথায় রেখেই। এক ভোট চালু হলে তো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থেকেই দেশ সরে আসবে।” কংগ্রেসও এই বিলের চূড়ান্ত বিরোধী। সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ বিল পেশ হলে সংসদ উত্তপ্ত হতে পারে।

Related articles

পুলিশের জালে ফলতার ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গিরের স্ত্রী 

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় (Falta, South 24 Parganas) দুর্নীতি, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো, তোলাবাজির অভিযোগের জাহাঙ্গির খানের (Jahangir...

আজ রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী, একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন-শিলান্যাস কর্মসূচি

আজ রাজ্যে আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার (BJP Government) গঠনের পর প্রথমবারের মতো...

আজ রাজ্যজুড়ে বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন, বিকেলে গঙ্গাবক্ষে অভিনব কর্মসূচি

আগামী ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালিত হবে শহর কলকাতায়। সেই উপলক্ষে গত ১৯ তারিখ থেকে তিন দিনব্যাপী...

এটাই নাকি রাজ্যের নিরপেক্ষ প্রশাসন! ওসির চেয়ারে মন্ত্রী

মুখ্যমন্ত্রী বলছেন নিরপেক্ষ প্রশাসন। পুলিশ চলবে আইন মেনে। সরকার হস্তক্ষেপ করবে না। বাস্তব ঘটনা দেড় মাসেই প্রকাশ্যে। একটি...