Sunday, May 31, 2026

বঙ্কিমচন্দ্রের সমালোচনাও সহ্য করেছিলেন বিদ্যাসাগর

Date:

Share post:

সুখেন্দু শেখর রায়, সাংসদ

আজ, 26 সেপ্টেম্বর, পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশত জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ প্রতিবেদন।

1830 সাল নাগাদ বিধবাদের অবর্ণনীয় দু:খকষ্টে বম্বে ও কলকাতা প্রেসিডেন্সির উদারপন্থাী শিক্ষিত সমাজে সহানুভূতির হাওয়া বইতে শুরু করে।মূলত ব্রাক্ষ সমাজ ও কিছু পত্রপত্রিকা বিধবা বিবাহের স্বপক্ষে জনমত তৈরির চেষ্টা করে। ওইসময় কলকাতার দুই গুরুত্বপূর্ন ধর্মীয় সংগঠন, তত্ত্ববোধিনী সভা ও ধর্মসভায় এবিষয়ে নানা আলোচনা হয়। কিন্তু বিধবা বিবাহের পক্ষে ঐক্যমত্য তৈরি হয়নি। এগিয়ে আসেন সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তিনি উদারনৈতিক চিন্তাধারায় বিশ্বাসী জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধ করে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলেন। কিন্তু নানা বাধার সম্মুখীন হন তিনি। এমনকি, বঙ্কিমচন্দ্রেরও সমালোচনা সহ্য করতে হয় তাঁকে। সমস্ত বিরোধিতা অগ্রাহ্য করে এগিয়ে চললেন এই একরোখা পন্ডিত । বিখ্যাত ধর্মগ্রন্থ ‘পরাশর সংহিতা’-র ভিত্তিতে বই লিখলেন-‘বিধবা বিবাহ।’ পাতায় পাতায় উল্লেখ করলেন বিধবা বিবাহের স্বপক্ষে শাস্ত্রের নিদান। কিন্তু সতীদাহের দেশে, কন্যাসন্তানের প্রতিনিয়ত হত্যা হয় যে পুরুষশাসিত সমাজে, সেখানে যুক্তিবাদী বিদ্যাসাগর গুরুত্ব পাবেন কেন? তা তিনি যতই পন্ডিত হন না কেন। লর্ড ডালহৌসির গভর্নর-ইন-কাউন্সিল এবিষয়ে যাবতীয় বিতর্ক ও উদ্ভূত পরিস্থি উপর নজর রাখছিল। সতীদাহ বন্ধে আইন করা গেছে। কাউন্সিল বিধবা বিবাহ প্রচলনেও আইন করতে আগ্রহী। সংস্কৃত কলেজের সুবাদে কাউন্সিলের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে বিদ্যাসাগরের ঘনিষ্ঠতা ছিল। তাঁরা বিদ্যাসাগরকে বিধবা বিবাহের বিষয়ে কাউন্সিলের কাছে গণ€-দরখাস্ত জমা দেওয়ার কথা বললেন। ঈশ্বরচন্দ্র হিন্দুশাস্ত্রের বিভিন্ন সূত্র উল্লেখ করে তৈরি করলেন স্মারকলিপি। প্রায় এক হাজার বিশিষ্টজন ঐ আবেদনে স্বাক্ষর করেন। কিন্তু বিরোধী পক্ষ, রাজা রাধাকান্ত দেব-এর নেতৃত্বে পাল্টা স্মারকপত্র জমা দেয়। রাজামশাইয়ের টাকার জোর, প্রভাব-প্রতিপত্তি যে অনেক বেশি ছিল তা বলা বাহুল্য।তাঁর ওই লিপিতে প্রায় 4 হাজার মানুষ স্বাক্ষর করেন। কিন্তু গভর্নর জেনারেল ডালহৌসি বিদ্যাসাগরের দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। তিনি বিধবা পুন:বিবাহের খসড়া আইন তৈরি করান। কিন্তু আইন তৈরির আগেই তাঁকে বিলেতে ফিরে যেতে হয়। নতুন গভর্নর জেনারেল হয়ে আসেন ক্যানিং। শেষপর্যন্ত তাঁর প্রচেষ্টায় মহাবিদ্রোহের এক বছর আগে গভর্নর-ইন-কাউন্সিল 1856 সালের 25 জুলাই পাশ করে বিধবা পুন:বিবাহ আইন।

আজ পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশত জন্মদিন । নবজাগরণের পথিকৃৎ, এই মহামানবের প্রতি জানাই প্রণতি ।

Related articles

পুলিশের মদতে বিজেপির গুন্ডাদের ষড়যন্ত্র! হামলার অভিযোগে আদালতে যাওয়ার বার্তা অভিষেকের

নিহত দলীয় কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে সোনারপুরে বিক্ষোভ ও উত্তেজনার মুখে পড়েন তৃণমূল কংগ্রেসের...

অন্নপূর্ণার ফর্মে তথ্যের পাহাড়, সুবিধা মিলবে কি না তা নিয়েই ধোঁয়াশা!

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিবর্তে চালু হওয়া অন্নপূর্ণা যোজনাকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে নতুন বিতর্ক দানা বাঁধছে। দীর্ঘ আবেদনপত্র, বিস্তর ব্যক্তিগত তথ্য...

অভিষেককে ভর্তি না নিতে ডিসি-র হুমকি: হাসপাতালে সরব মমতা

দলীয় কর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে বিজেপির আক্রমণের শিকার তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই হামলার পরে...

গণতন্ত্রের উপর আক্রমণ: অভিষেকের উপর হামলায় সরব রাহুল-কেজরি

সোনারপুরে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে একযোগে সুর চড়ালেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী...