ওদের বিশ্বাস, দুর্গা নারী বলেই তাঁকে আঘাত করেননি মহিষাসুর

দেবতারা প্রতারক। মহিষাসুরের শৌর্য, বীর্যের সঙ্গে এঁটে উঠতে না পেরে মা দুর্গার মত এক নারীকে যুদ্ধে পাঠান তাঁরা। যুদ্ধে যেহেতু নারীকে আঘাত করা বীর মহিষাসুরের কাছে নীতিবিরুদ্ধ কাজ ছিল, তাই তিনি পরাজিত হন। এমনই মনে করেন গ্রাম বাংলার সেইসব আদিবাসী জনজাতির মানুষরা, যাঁদের কাছে মহিষাসুর পরাক্রমশালী, নীতিবান এক ট্র্যাজিক নায়ক। হুদুরদুর্গার পূজারী সেইসব মানুষদের বাস বালুরঘাট সহ দক্ষিণ দিনাজপুরের বিভিন্ন আদিবাসী মহল্লায়, যাঁরা নিজেদের মনে করেন মহিষাসুরের বংশধর!

প্রতি বছর এই সময়ে চলে আদিবাসীদের দাসাই পরব, চলে অনার্য দেবতা হুদুরদুর্গা মহিষাসুরকে সম্মান জানিয়ে পুজো, ধামসা-মাদলের তালে তালে নাচগান। তবে এই পরব আদতে শোকের উৎসব, যেখানে আর্যদের হাতে অনার্য দেবতা হুদুরদুর্গাকে কৌশলে নিধন করার শোক উদযাপিত হয়। দশমী পর্যন্ত চলে আদিবাসীদের এই মহিষাসুর পুজো।

প্রথাগত হিন্দু ঐতিহ্যে যতই দুর্গা ও দেবতাদের জয়গাথা গাওয়া হোক, মহিষাসুরের বংশধর পরিচয় দেওয়া আদিবাসী সমাজের মতে এক প্রকৃত বীর যোদ্ধাকে জোর করে হারানো হয়েছিল। তাঁদের মতে, মহিষাসুরকে বাকি সমাজ ভিলেন বলে দেখাতে চাইলেেও তিনি ছিলেন নীতিনিষ্ঠ। যুদ্ধে কোনও নারী বা শিশুকে তিনি আঘাত করতেন না। তাই তাঁকে মারতে দেবতারা পাঠান দুর্গাকে, আর নারীকে আঘাত করবেন না বলে পরাজয় বরণ করেন বীর মহিষাসুর।

আরও পড়ুন-টালাব্রিজ ভাঙার সুপারিশ, কী হবে ভবিষ্যত?