চেতলার ‘ত্রাস’ শ্রীধর দাসের হাতে পদ্ম-পতাকা তুলে দিলেন দিলীপ ঘোষ

গেরুয়া নেতারা হামেশাই ঢাক পিটিয়ে দাবি করে থাকেন, “বিজেপি হচ্ছে পার্টি উইথ আ ডিফারেন্স”।

‘অন্যরকম’ এই দলটিই বুধবার কার্যত সংবর্ধনা দিয়ে বাম আমলে চেতলার ত্রাস শ্রীধর দাসের হাতে পদ্ম-পতাকা তুলে দিল। নিজের হাতে পতাকা তুলে দিয়ে দক্ষিণ কলকাতার এক সময়ের কুখ্যাত ডনকে দলে নিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ স্বয়ং।

দিলীপবাবু-সহ বঙ্গষ বিজেপির প্রায় সব শীর্ষ নেতাই বার বার ঘোষনা করেছেন, “আমরা ঘরের দরজা বড় করেছি। সবার জন্য বিজেপির দরজা খোলা”। দরজা ঠিক কতখানি ‘বড়’ হয়েছেফ তা এদিন শ্রীধর দাসের অন্তর্ভূক্তিতেই রাজনৈতিক মহল বুঝেছে।
চেতলা এলাকার এক সময়ের ত্রাস শ্রীধর দাসের হাতে দিলীপ ঘোষ গেরুয়া ঝান্ডা তুলে দেওয়ার পর রাজ্য বিজেপির অন্দরেই উঠেছে প্রশ্ন। শ্রীধর দাসের বিরুদ্ধে তোলাবাজি-সহ একাধিক মামলা রয়েছে। বাম আমলে শ্রীধরকে কার্যত ‘কোলের ছেলে’ হিসেবেই দেখতেন সিপিএম নেতারা। 2011-র পর জার্সি বদলান শ্রীধর দাস। চেতলার মানুষের বক্তব্য, সে সময় বর্তমান সাংসদ মালা রায়ের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। আগের মতো তাঁর আর দাপট না থাকলেও, শ্রীধরের ভাবমূর্তি এলাকায় একটুও বদলায়নি।সেই শ্রীধর এখন জোড়াফুল ছেড়ে পদ্মে এলেন। রাসবিহারীর ‘আদি দক্ষিণ কলকাতা বারোয়ারি সমিতি’র দুর্গাপুজোর দখলকে ঘিরে ফের ভেসে ওঠেন শ্রীধর। তাঁকে সামনে রেখেই ওই পুজোটি দখলের চেষ্টা করেছিল বিজেপি। দু’পক্ষের মধ্যে বাঁধে সংঘর্ষ। গ্রেফতার করা হয় শ্রীধর দাসকে।সেই শ্রীধরই বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন বিজেপিতে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ সাবলীলভাবেই এই যোগদানের ব্যাখ্যা দিয়ে এদিন বলেন, “শ্রীধর দাস বিজেপিতে আসায় দক্ষিণ কলকাতায় সংগঠন মজবুত হবে”। ওদিকে শ্রীধরের রুটিন সাফাই, তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে শাসক দল। সে কারণেই তিনি এলাকা ছাড়া।
‘স্বচ্ছ’ বিজেপিতে শ্রীধরের মতো এক সময়ের ডনকে নেওয়ায় বিজেপির ভাবমূর্তি কতখানি স্বচ্ছ থাকবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই দলের অন্দরেই উঠছে প্রশ্ন। বিজেপি নেতৃত্ব আশাবাদী, দক্ষিণ কলকাতায় তৃণমূলের ওপর চাপ বাড়াতে এই শ্রীধরকেই দরকার। শ্রীধর নাকি চেতলায় ববি হাকিমকেও বিপাকে ফেলতে পারবেন। এমনটাই ভাবছে বঙ্গ-বিজেপি।