রাফাল চুক্তি নিয়ে চড়াও হাসি কেন্দ্রীয় সরকারের। এফআইআর করার আর্জি খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার, রাফাল চুক্তির ফৌজদারি তদন্তের আর্জির প্রেক্ষিতে এই রায় দিল শীর্ষ আদালত।
১৪ ডিসেম্বর রাফাল চুক্তিকে ক্লিনচিট দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা হয়। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তির বিচার করেন। ইতিমধ্যেই ফ্রান্সে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাফাল গ্রহণ করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। ফরাসি সংস্থা দাসাউ থেকে ৩৬টি বিমান কিনতে খরচ পড়ছে ৫৯ হাজার কোটি টাকা। এই চুক্তি নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রক থেকে ফাঁস হওয়া নানা খবর সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়। এরপরই অরুণ শৌরী ও যশবন্ত সিং সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁদের হয়ে মামলা লড়েন প্রশান্তভূষণ।

রাফাল চুক্তিতে যে কোনও অনিয়ম হয়নি তা গত বছর রায়ই জানিয়ে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু সেই রায় পুনর্বিবেচনা করার জন্য লোকসভা ভোটের আগে শীর্ষ আদালত আবেদন জানান বিজেপিরই দুই বিক্ষুব্ধ নেতা যশবন্ত সিনহা ও অরুণ শৌরি। বক্তব্য ছিল, রাফাল কেনার ক্ষেত্রে যে কোনও অনিয়ম হয়নি সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। মামলার শুনানির পর ১০ মে রায়দান স্থগিত রেখেছিল শীর্ষ আদালত।
১৭ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ অবসর নেবেন। তার আগে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় ঘোষণা করছেন তিনি। বৃহস্পতিবার, প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, বিচারপতি এ কে কল এবং কেএম জোশেফ-এর ডিভিশন যশবন্ত-শৌরিদের আবেদন খারিজ করে দেয়।
শুনানির সময় আবেদনকারীরা সংবাদপত্রে প্রকাশিত বেশ কিছু খবরের একটি ফাইল আদালতে পেশ করে। সেখানে উল্লেখ ছিল যে, প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় রাফাল নির্মাণকারী সংস্থা দাসো-র সঙ্গে দর কষাকষিতে নাক গলিয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্ট এই যুক্তি মানতে চায়নি। তাদের যুক্ত ছিল, পিএমও কোনও বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলেই, যে সেখানে অনিয়ম হয়েছে, তা বলা যায় না। কেন্দ্রের তরফে সওয়ালে বলা হয়, আবেদনকারীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে এই মামলা করেছেন।

রাফাল চুক্তিতে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে লোকসভা নির্বাচনের আগে দেশ জুড়ে প্রচার করেছিলেন তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধি। তিনি অভিযোগ করেন, ওই চুক্তির জেরে শিল্পপতি অনিল আম্বানির সংস্থাকে ৩০ হাজার কোটি টাকা পাইয়ে দিয়েছিল মোদি সরকার। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট আগের রায়েই স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, কোনও অনিয়ম খুঁজে পাওয়া যায়নি। সুপ্রিম কোর্টের এদিনের রায়েও ফের তদন্তের আর্জি খারিজ করে শীর্ষ আদালত। কংগ্রেস অবশ্য এখনও রায় নিয়ে তাদের কোনও মতামত দেয়নি।

আরও পড়ুন-শিশুদিবসে নবান্নে কচিকাঁচারা, উপহার দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

