আসাদউদ্দিন ওয়াইসি’র বিজেপি যোগ ফাঁস

কণাদ দাশগুপ্ত

কণাদ দাশগুপ্ত

শেষপর্যন্ত হায়দরাবাদের AIMIM বা সর্বভারতীয় মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন-এর সঙ্গে বিজেপি যোগ থাকা বা মধুর সম্পর্কের বিষয়টি ঝুলি থেকে বেরিয়ে পড়লো। তৃণমূলের তরফে একাধিকবার এই অভিযোগই আনা হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপি’র এক নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ নিজের অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট করে কার্যত এই অভিযোগ মেনেই নিয়েছেন। এদিকে ওই নেতার এই পোস্ট ঘিরে তুমুল বিতর্ক গেরুয়া শিবিরের অন্দরে এবং বাইরে৷

বিজেপির ওই নেতার নাম অনুপম হাজরা। প্রাক্তন সাংসদ তিনি। এবারের লোকসভা ভোটে তিনি অবশ্য পরাজিত হয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীর কাছে।

বিজেপির একাংশের অভিযোগ, ওই পোস্টে অনুপম হাজরা যা লিখেছেন, তা বিজেপির ঘোষিত নীতির বিরোধী। অভিযোগ উঠেছে, এ ধরনের পোস্টের জন্য অনুপম হাজরার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বিজেপি নেতৃত্বের। দলেরই একাংশ অনুপম হাজরার এই পোস্ট নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছে দিল্লিতে৷ বঙ্গ-বিজেপি নেতৃত্বের কাছেও বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করার দাবি জানানো হয়েছে৷

ওই পোস্টে বিজেপি নেতা অনুপম হাজরা বিশেষ ইঙ্গিতপূর্ণভাবে এ রাজ্যে AIMIM বা সর্বভারতীয় মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন-এর প্রধান  আসাদউদ্দিন ওয়াইসি-কে এরাজ্যে আমন্ত্রণ জানিয়ে অনুপম হাজরা লিখেছেন, “Welcome Asaduddin Owaisi to Bengal”৷ এই পোস্টের সঙ্গেই ওয়াইসি-র সমর্থনে দেওয়াল লিখনের একাধিক ছবিও পোস্ট করেছেন তিনি।

এই ওয়াইসি এবং তাঁর দল মিম-এর বিরদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস নাম করে এবং না করে ধারাবাহিক অভিযোগ জানিয়ে চলেছে যে ওয়াইসি আসলে বিজেপির ‘এজেন্ট’৷ বিজেপি’র অর্থে পুষ্ট৷ এ রাজ্যে তৃণমূলের যে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে, তা লুঠ করার ছকেই বিজেপি মোটা টাকা দিয়ে মাঠে নামিয়েছে মিম-কে৷ তৃণমূলের অভিযোগ, ওয়াইসি বিজেপি’র সঙ্গে গোপনে হাত মিলিয়ে, বিজেপির কথায় এই রাজ্যকে অস্থির করতে নেমেছে৷

তৃণমূল- সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ওয়েইসি-র নাম না করে একাধিকবার বলেছেন, “কেউ কেউ হায়দরাবাদ থেকে টাকার থলি নিয়ে এসে মিটিং করে বলছে, তোদের জন্য লড়ব। কী করে লড়বে? তোমরা যে বিজেপির সব থেকে বড় দালাল। লড়লে আমরাই লড়ব।” রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি মমতার সতর্কবাণী, “কোনও অপপ্রচারে পা দেবেন না। কেউ কেউ বাইরে থেকে এসে মিটিং করে উস্কানি দেবে। আমরা কোনও সাম্প্রদায়িকতাকে প্রশ্রয় দিই না। সে হিন্দুই হোক বা মুসলমান।’

রাজনৈতিক মহলের ধারনা, সম্ভবত আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দল, AIMIM-কে নিশানা করেই মুখ্যমন্ত্রী গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। NRC-কে সামনে রেখে আসাদউদ্দিনের দল রাজ্যে সংখ্যালঘুদের মধ্যে প্রভাব বাড়াতে চাইছে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ, মালদার মতো সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত জেলায় তারা সক্রিয়। গত লোকসভা ভোটে সংখ্যালঘু এলাকায় ভালো ভোটও পেয়েছেন ওয়াইসির দলের প্রার্থীরা। প্রশাসনের কাছে খবর, মুর্শিদাবাদের মতো জেলায় নিয়মিত মিটিং-মিছিল করছে তারা। মিম-এর এ রাজ্যের নেতারা সম্প্রতি ঘোষনা করেছেন, আগামী জানুয়ারিতে আসাদউদ্দিন জনসভা করবেন ব্রিগেডে।

মিম সক্রিয় হলে রাজ্যে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হবে। তাতে আখেরে লাভ বিজেপিরই। তাই ওয়েইসি’র পিছনে বিজেপির মদত থাকতেই পারে। এমনই মনে করছেন তৃণমূলনেত্রী তথা তৃণমূলও। মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই এই ধরনের চক্রান্তকারীদের সতর্ক করে বলেছেন, “দয়া করে আগুন নিয়ে খেলবেন না। আগুন লাগলে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, কেউ বাদ যায় না। অসমে NRC তালিকা থেকে বাদ যাওয়াদের মধ্যে রয়েছে প্রায় 12 লাখ হিন্দু। বাংলায় এ সব হয় না, হবে না।”

বিজেপি নেতা অনুপম হাজরার এই পোস্টকে ‘প্ররোচনামূলক’ বলে চিহ্নিত করেছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। পোস্টে লেখা হয়েছে,

“এই যা… !!! দিদির প্রতিযোগী ঢুকে গেল বাংলায়…এবার কি হবে !!!
Ohh no !!! Didi’s competitor knocking at her door !!!
Welcome Asaduddin Owsisi to Bengal !!!”

রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, এই পোস্টেই বিজেপির ‘গোপন অ্যাজেণ্ডা’ ফাঁস করে দিয়েছেন বিজেপি নেতা অনুপম হাজরা।

এখন দেখার এ বিষয়ে দল হিসেবে বিজেপি কী বলে ?