Sunday, January 18, 2026

সূর্য থেকে বেরচ্ছে লক্ষ কোটি ‘সূচ’,দেখালেন হুগলির কৃষক-সন্তান তন্ময়

Date:

Share post:

সূর্য থেকে বেরচ্ছে লক্ষ কোটি ‘সূচ’,দেখালেন হুগলির কৃষক-সন্তান তন্ময়। সূর্যের রহস্য,আর সূর্যের তাপ মাত্রা বেরে যাওয়া নিয়ে হাজারো জল্পনা,এই নিয়ে গোটা পৃথিবীর বিঞ্জানী আর মানুষের কৌতুহলের অবসান ঘটালেন হুগলীর আরামবাগ পুরশুড়া পশ্চিমপাড়া এলাকার এক কৃষক সন্তান তন্ময় সামন্ত। সূর্যের তাপ মাত্রা বেরে যাওয়া নিয়ে আবিষ্কারে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি।

  • সূর্যের সূচ

তন্ময় সামন্ত। আরামবাগের কাছে হুগলির পশ্চিমপাড়ার কৃষক সন্তান তিনি। সূর্যের রহস্যময় এক ধরনের ‘সূচ’-এর কথাও বলেছেন তিনি। যার নাম- ‘স্পিকিউল্‌স’। প্রচণ্ড গতিবেগে যে সূচগুলি সূর্যের পিঠের কিছুটা উপর থেকে বেরিয়ে হুশ্‌ করে উপরে উঠে গিয়ে সূর্যের বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা একলাফে কয়েক লক্ষ গুণ বাড়িয়ে দেয়। তার বায়ুমণ্ডলকে করে তোলে ভয়ঙ্কর। গবেষণাপত্রটি বেরিয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘সায়েন্স’-এর নভেম্বরের সংখ্যায়।

  • সূচ কত ক্ষমতাশালী হতে পারে!

সূর্যের এই সূচগুলির একেবারে অন্দরে যেখানে পরমাণু চুল্লিটা আছে, সেখানকার তাপমাত্রা প্রায় দেড় কোটি ডিগ্রি কেলভিন। সেখান থেকে সূর্যের পিঠ বা ফোটোস্ফিয়ারের দূরত্বটা ৭ লক্ষ কিলোমিটার। যেখানকার তাপমাত্রা ৫ হাজার ৭০০ থেকে ৬ হাজার ডিগ্রি কেলভিন।
কিন্তু এরপরেই পিঠ থেকে ২ হাজার কিলোমিটার উপরে থাকা তার বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নীচের স্তরটি ১০ হাজার বা তারও কিছু বেশি ডিগ্রি কেলভিন তাপমাত্রায়। ওই স্তরের নাম ‘ক্রোমোস্ফিয়ার’। ক্রোমোস্ফিয়ার থেকে শুরু সূর্যের বায়ুমণ্ডল। ফোটোস্ফিয়ার থেকে যার শেষ প্রান্তটার দূরত্ব প্রায় ৭০ লক্ষ কিলোমিটার।

  • সূর্যের ‘সূচ’ গবেষণার অভিনবত্ব কোথায়?

বিশিষ্ট সৌরপদার্থবিজ্ঞানী, মোহনপুরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (আইসার-কলকাতা)-এর অধ্যাপক দিব্যেন্দু নন্দী বলছেন, “তন্ময়ের আগে এটা আর কেউ দেখাতে পারেননি। ২০১১-য় একটা পেপারে অবশ্য ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, করোনার তাপমাত্রা একলাফে অতটা বাড়ানোয় ভূমিকা থাকতে পারে সূচগুলির। কিন্তু তা চাক্ষুষ করা সম্ভব হয়নি।”

বর্তমানে চিনের বেজিং শহরে সোলার ফিজিক্স নিয়ে গবেষণা করছেন পিকিং ইউনিভারসিটি চিন সরকারের অধীনে। তন্ময় কিছু দিনের জন্য ফিরেছেন নিজের গ্রামের বাড়ি পশ্চিমপাড়ায়। দুদিন পরেই আমেরিকায় পারি দেবে তন্ময়। স্বপ্নের উরানে ডাক এসে গেছে আমেরিকায়। আমেরিকার জন হপকিংন্স্-এ গবেষণা করবেন। পরে নাসায় গবেষণা করার সুযোগ পেতে চলেছেন হুগলির আরামবাগ পুরশুরা এলাকার পশ্চিমপাড়ার তন্ময়। একমাত্র ছেলের এমন সাফল্যে উচ্ছ্বসিত তন্ময়ের বাবা অশোক সামন্ত,মা মিনক্ষী সামন্ত। পড়াশুনায় ছেলে প্রথম থেকেই মেধাবি ছিল বলে জানান তন্ময়ের বাবা মা। তন্ময় বলেন,’অনেকটাই সিক্রেট বিষয় এটা। এখনও গবেষণা চলবে। ভারতবর্ষে এই নিয়ে ভবিষ্যতে কাজ করতে চাই।’

spot_img

Related articles

এসআইআর চলাকালীন অশান্তি ঠেকাতে রাজ্যকে সতর্ক করল কমিশন

রাজ্যে চলমান এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) প্রক্রিয়ার সময় সাম্প্রতিক অশান্তির ঘটনার পর নির্বাচন কমিশন রাজ্য সরকারের দিকে সতর্কবার্তা...

এসআইআর আতঙ্কের জের! শান্তিপুর ও নামখানায় মৃত ২

বাংলায় এসআইআর-বলির সংখ্যা দীর্ঘতর হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের তুঘলকি সিদ্ধান্তের জোরে প্রতিদিনই মৃত্যু হচ্ছে সাধারণ মানুষের। নদিয়া ও দক্ষিণ...

মোদির সফরে বদলে গেল মালদহ টাউন স্টেশন! নিরাপত্তার চাপে প্রশ্নের মুখে জীবিকা

চিরচেনা কোলাহল, যাত্রীদের ভিড় আর হকারদের ডাক—এই দৃশ্যেই অভ্যস্ত মালদহ টাউন স্টেশন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Narendra...

প্রহসনে পরিণত হয়েছে হেনস্থার এই হিয়ারিং! অভিযোগ জানিয়ে কমিশনের দফতরে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল

বাংলা জুড়ে এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) সংক্রান্ত শুনানি কার্যত হেনস্থার রূপ নিয়েছে—এই অভিযোগ তুলে শনিবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনের...