দিল্লিতে আপ নিশ্চিন্ত, প্রবল চাপে অমিত শাহ

বিজেপির অতি ঘনিষ্ঠ মিডিয়া রিপোর্টও এই মুহূর্তে বলছে না, দিল্লি বিধানসভা ভোটে জিতবে বিজেপি। বরং গত বারের কাছাকাছিই থাকবে আপের আসন। আর তা হলে খোদ রাজধানীর মসনদ হাতছাড়া হওয়ার দায় প্রায় পুরোটাই চাপবে অমিত শাহের উপর। দেশের প্রবল প্রতাপশালী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে ওঠার চেষ্টার পাশাপাশি যিনি বিজেপির সভাপতি। ঘটনাচক্রে বিজেপির দিল্লিযুদ্ধের রণকৌশল রচনার দায়িত্বে তিনিই।

অথচ দিল্লিতে বিজেপির সম্ভাবনা গত বছরের শুরুর দিকেও যথেষ্ট উজ্জ্বল ছিল। লোকসভা ভোটেও বিজেপি-ঝড়ে উড়ে গিয়েছে আপ, খুঁজে পাওয়া যায়নি কংগ্রেসকে। তাহলে কয়েক মাস পরে এখন এমন কী হল যাতে ছবিটা উল্টে গিয়েছে? কংগ্রেস যথারীতি এই ভোটেও দাগ কাটার জায়গায় নেই। কিন্তু আপের জমি পুনরুদ্ধারের রহস্য কী?

প্রাক-নির্বাচনী সমীক্ষা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণে সম্ভাব্য কয়েকটি কারণ উঠে আসছে।

1) জাতীয় নেতা হওয়ার বাসনা ছেড়ে আপ সুপ্রিমো ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল রাজ্যের প্রশাসনিক কাজকর্মে মন দিয়েছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, বিদ্যুৎ, পানীয় জল, পরিবেশ এগুলি এখন আপ সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায়। বিশেষত দিল্লির নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের কাছে সর্বোচ্চ উন্নয়ন পৌঁছে দেওয়ার টার্গেট নিয়েছে আপ।

2) যতদিন পর্যন্ত কেজরিওয়াল সকাল-বিকেল মোদি বিরোধিতার শ্লোগান তুলে লেফটেন্যান্ট গভর্নর ও আমলাদের সঙ্গে তুমুল বিরোধ বাধিয়ে নিজেই সরকারের কাজে অচলাবস্থা তৈরি করছিলেন, ততদিন তিনি নিয়মিত মিডিয়ার প্রচার পেলেও দিল্লিবাসীর ক্ষোভ তাঁর বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত হচ্ছিল। প্রশাসনিক কাজকর্ম গতি হারাচ্ছিল। কিন্তু এই স্ট্র্যাটেজি বদল করে রাজনীতিক কেজরিওয়াল প্রশাসক কেজরিওয়াল হয়ে ওঠার চেষ্টা করতেই উন্নয়নের সুফল মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছেছে, জন-অসন্তোষও লক্ষ্যণীয়ভাবে কমেছে।

3) অন্য সব রাজ্যের মত কেজরিওয়ালও জনমোহিনী নীতি নিয়ে পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতি শুরু করেছেন যা ভারতের ভোট রাজনীতির অতি চেনা ছক। উন্নয়নের এই তাসেই দ্বিতীয়বার বাজিমাৎ করতে চাইছে আপ।

4) কেজরিওয়ালের বিপক্ষে বিজেপির কে? কোনও মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ঘোষণা করার ঝুঁকি নিতে পারেনি বিজেপি। এবারও তারা মোদির মুখকেই ব্যবহার করতে চাইছে যা আরও একবার আত্মঘাতী বলেই প্রমাণ হবে। দিল্লির মানুষ বলছেন, মোদি তো আর মুখ্যমন্ত্রী হবেন না! তাহলে তাঁর নাম টেনে ভোট করার মানে কী? দিল্লির কোনও নেতার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা আছে তা কি অমিত শাহ মনে করেন না? নাকি কোনও এক নেতার নাম ঘোষণায় অন্য নেতা অন্তর্ঘাত করবেন এই আশঙ্কা?

5) কৌশলগতভাবেই CAA বিরোধিতায় সুর খুব বেশি চড়াচ্ছে না আপ। কারণ দিল্লিতে শিখ ভোটারের সংখ্যা যথেষ্ট এবং পাকিস্তানে সংখ্যালঘু শিখদের নির্যাতিত হওয়ার একের পর এক ঘটনা সামনে আসছে। ফলে চড়া সুরে নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করতে গিয়ে শিখ ভোটারদের বিরাগভাজন হতে চায় না কেজরির দল।

অর্থাৎ সবমিলিয়ে গত কয়েক মাস চুপচাপ কাজ করে নিজের জমি যেভাবে তৈরি করেছেন কেজরিওয়াল, তাতে ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরেরও বড় কিছু করার নেই। আট ফেব্রুয়ারি ভোটের আগে অপ্রত্যাশিতভাবে যদি না কোনও জাতীয় ইস্যু তৈরি হয়, তাহলে বিজেপির কপালে অবশ্যম্ভাবী দুঃখ আছে এবং দ্বিতীয়বার আপের ক্ষমতায় ফেরা পাকা।