Saturday, May 30, 2026

ভাষার ‘জাগলারি’তে কোনও দেশ আর্থিক ক্ষেত্রে সবল হয় না

Date:

Share post:

রাত পোহালেই 2020-21 সালের কেন্দ্রীয় বাজেট।অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সংসদে দ্বিতীয় বার পেশ করবেন পূর্ণাঙ্গ বাজেট। 2015-16 সালের পরে এ বারও সে দিনের মতো শনিবার।

দেশের ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতির হাল ফেরাতে নরেন্দ্র মোদি কোন ধরনের পদক্ষেপ করেন, তা দেখতে কৌতূহলি দেশবাসী, করদাতা এবং লগ্নিকারীরা। আর্থিকভাবে কাহিল এবং ঝিমিয়ে থাকা অর্থনীতি আর চলতি অর্থবর্ষের বৃদ্ধির পূর্বাভাসে এমনিতেই মুষড়ে আছেন দেশের মানুষ৷ রিজার্ভ ব্যাঙ্ক থেকে শুরু করে রেটিং সংস্থা, IMF, বিশ্ব ব্যাঙ্কের মতো আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান সকলেই তাকিয়ে মোদির বাজেটের দিকে। কেন্দ্রের পরিসংখ্যান মন্ত্রকের অনুমান, বৃদ্ধির হার এবার আটকে থাকবে 5 শতাংশে। এই পরিস্থিতিতে বাজেটের অপেক্ষায় সব মহল। অনেকেরই আশা, যা খারাপ হওয়ার হয়তো হয়ে গিয়েছে, এ বার অন্তত ভাল কিছু নিশ্চয়ই ঘটবে। আগামী দিনে যার হাত ধরে ঠিক ঘুরে দাঁড়াবে ভারতবর্ষের হেলে পড়া অর্থনীতি।

সাধারনভাবে বলা যায়, বাজেটের গুরুত্ব কিন্তু ক্রমশ কমে যাচ্ছে
অতীতে বাজেটে একটা বড় জায়গা থাকত পরিকল্পনা খাতে খরচ। কিন্তু যোজনা পরিষদ তুলে দেওয়া হয়েছে।কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে টিঁকে আছে শুধু অর্থ কমিশন। পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাও নেই। তাই বাজেটে আঞ্চলিক বৈষম্যের সামাল কোন পথে দেওয়া যাবে, তা জানতে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যোজনা পর্ষদ ভেঙে দিলেও উঠে এসেছে GST কাউন্সিল। দু’বছর হতে চলল, এই নতুন কর ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যা কিন্তু রয়েই গিয়েছে। আগে বাজেটের দিন ছিল সরকারের আর্থিক ভাবনা জেনে নেওয়ার দিন৷ অতীতে বাজেটেই সরকার তার আর্থিক নীতি ঘোষণা করতো। কিন্তু এখন গোটা বছর ধরেই নতুন নীতি আসছে, যাচ্ছে। ফলে বাজেট বক্তৃতার আর আগের ওজন আর নেই। এর ফলে নিশ্চিতভাবে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা। আর সেখানেই ধাক্কা খান লগ্নিকারীরা। লগ্নিকারীরা নির্দিষ্ট নীতি দেখেই টাকা ঢালতে চান। কিন্তু নীতি যদি ঘন ঘন বদলায়, তা হলে তাঁরা বিনিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখেই দাঁড়ান। কোনও লগ্নিকারীই তা মানতে পারেন না৷ সরকারের রাজনৈতিক স্বপ্ন বাজেটে জোর পেলে সমস্যা বাড়ে৷ চলতি আর্থিক বছরেও বাজেটের আগে এবং পরে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক আর্থিক নীতি ঘোষিত হয়েছে। বাজেটের বাইরে গিয়ে এই সব ঘোষণা কিন্তু বাজেটের গুরুত্বই কমিয়ে দিচ্ছে। বাজেটের বিশ্বাসযোগ্যতার ভিত্তিই হল প্রতিশ্রুতি, বরাদ্দ এবং খরচের মধ্যে সাযুজ্য।
হাবেভাবে যা-ই বোঝান, অর্থনীতি নিয়ে চিন্তিত স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। অর্থনীতি কী ভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, তা নিয়ে বাজেটের আগে
দফায় দফায় আলোচনা করেছেন শিল্পপতি, অর্থনীতিবিদ, লগ্নিকারী, কৃষি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে। এসব আলোচনায় লাভ কতখানি হলো, তা বোঝা যাবে শনিবার৷ তবে একটা বিষয় মাথায় রাখতেই হবে, দেশকে আর্থিক বৃদ্ধির রাস্তায় ফেরাতে হলে বাজেটে একাধিক স্বচ্ছতা জরুরি৷ একাধিক অর্থ হয়, এমন কিছু না থাকাই দরকার৷ কথা বা ভাষার জাগলারিতে কখনও কোনও দেশ আর্থিক দিক থেকে শক্তিশালী হয়নি, হবেও না৷

Related articles

SEZ-এর আধুনিকীকরণে নজর:  শিল্প নিয়ে পরিকল্পনা জানালেন শমীক

রাজ্যে শিল্পায়নের বার্তা দিয়ে বাংলায় ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। একাধিক দফতরের মন্ত্রিত্ব বন্টন হলেও শিল্প মন্ত্রী এখনও নির্ধারিত হয়নি।...

IPL: শুভমানের শতরানে ফাইনালে গুজরাট, রেকর্ড গড়েও ট্র্যাজিক নায়ক বৈভব

শুভমান গিলের দুরন্ত শতরান, রাজস্থান রয়্যালসকে ৭ উইকেটে হারিয়ে IPL ফাইনালে গুজরাট টাইটন্স (Gujarat Titans )। বৈভব সূর্যবংশী...

‘সুন্দরী’কে আর রিল বানাবে না সায়নী! উদ্ধার ঝুলন্ত দেহ

ত্রিবেণীর (Triveni) পরিচিত সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ভ্লগার (Social Media Content Creator and Vlogger) পশপ্রেমী সায়নী চক্রবর্তীর...

সোমে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ: নজরে অর্থ ও স্বরাষ্ট্র দফতর

বাংলায় প্রথমবার ক্ষমতা দখল করলেও রাজ্যে মন্ত্রিসভা গঠনে হিমসিম বিজেপির সরকার। মাত্র পাঁচ মন্ত্রী এখনও পর্যন্ত শপথ নিয়েছেন।...