Tuesday, April 21, 2026

ইয়েচুরি প্রার্থী হলে জিততে পারবেন ? কণাদ দাশগুপ্তর কলম

Date:

Share post:

    কণাদ দাশগুপ্ত

শুধু পুরভোট নয়, এই এপ্রিলে রাজ্যসভায় রাজ্যের ৫ আসনেও ভোট হতে চলেছে।

বর্তমানে এই আসনগুলির মধ্যে ৪টি তৃণমূল কংগ্রেসের৷ পঞ্চম আসনে
২০১৪ সালে সিপিএম প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়৷ নানা বিতর্কিত কারনে ২০১৭ সালে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে সিপিএম। তাঁকে সিপিএম দল সংসদে পাঠালেও ঋতব্রত সাংসদ পদে ইস্তফা দেননি৷ তারপর থেকে রাজ্যসভায় “তৃণমূলের ছায়াসঙ্গী এক নির্দল সদস্য” এই ঋতব্রত৷

এবারের রাজ্যসভার ভোটে তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যার নিরিখে ৫ আসনের প্রথম ৪টিতে তৃণমূলের জয় নিশ্চিত৷ রাজনৈতিক মহলের নজর এখন রাজ্যসভার পঞ্চম আসনের দিকে৷

বিধানসভায় এখন বাম বা কংগ্রেসের যা শক্তি, তাতে তারা নিজেদের কাউকে রাজ্যসভায় পাঠানোর জায়গায় নেই৷ তবে সম্প্রতি জোটবদ্ধ হওয়া এই দু’দলের ধারনা এবং আশা, এক হয়ে একজন প্রার্থী দিলে পঞ্চম আসনে জোটপ্রার্থী জিতবে৷

২০১৯-এর লোকসভা ভোটের পর থেকে লোকসভা এবং রাজ্যসভায় বঙ্গ- সিপিএমের কোনও প্রতিনিধিত্বই নেই। ১৯৬৪ সালে সিপিএম তৈরি হওয়ার পর প্রথমবার এই ঘটনা ঘটেছে। তাই সিপিএম এবার এই আসনে প্রার্থী দিতে চাইছে৷ এ রাজ্য থেকে দলের সাধারন সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিকে জোটের প্রার্থী করতেও উদ্যোগী হয়েছে৷ ইয়েচুরির সংসদীয় ভূমিকা তুলে ধরে রাজ্য সিপিএম এক প্রস্তাব নিয়েছে সম্প্রতি। প্রস্তাবে ২০০৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সংসদে ইয়েচুরি-র লড়াকু
ভূমিকার কথাই তুলে ধরা হয়েছে৷ ইয়েচুরির জন্য কংগ্রেসের সহায়তাও প্রার্থনা করেছে সিপিএম৷

ফলে, একাধিক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এই পঞ্চম আসন ঘিরে৷ জাতীয় রাজনীতিতেও হয়তো ছাপ ফেলতে পারে এই ‘পঞ্চম আসন’৷

ঠিক কোন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে রাজ্যসভায় এ রাজ্যের পঞ্চম আসন ?

◾রাজ্য বিধানসভার মোট বিধায়ক সংখ্যা ২৯৪ জন৷

◾বিজেপির বিধায়করা সম্ভবত এই ভোটে অংশ নেবেন না৷ এমন বিধায়ক ৬জন৷

◾ফালাকাটার তৃণমূল বিধায়ক প্রয়াত হয়েছেন৷ ফলে একটি আসন শূন্য।

◾মোট ২৯৪ থেকে ৭টি প্রথম পছন্দের ভোট কমে যেতে পারে।

◾বাম ও কংগ্রেস থেকে যাওয়া বিধায়কদের নিয়ে তৃণমূলের সদস্য সংখ্যা এখন মোট ২৩৪ জন।

◾ হিসাবে আপাতত দেখা যাচ্ছে, রাজ্যসভায় একজন প্রার্থীকে জয়ী করতে প্রথম পছন্দের ভোট প্রয়োজন হবে ন্যূনতম ৪৮টি৷

◾ ৪৮টি করে প্রথম পছন্দের ভোট ন্যূনতম প্রয়োজন হলে, তৃনমূলের ৪ জন প্রার্থীকে জেতাতে দরকার হবে ৪৮ x ৪ = মোট ১৯২টি ভোট৷

◾চারজনকে জেতানোর পরেও তৃণমূলের হাতে অক্ষত ও অতিরিক্ত
থাকবে ৪২টি ভোট৷

◾পঞ্চম প্রার্থীকেও জয়ী করাতে যে সংখ্যা প্রয়োজন, তৃণমূলের হাতে তার থেকে কম থাকছে মাত্র ৬টি ভোট৷

◾কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট ত্যাগ করেছেন, এমন বিধায়কদের বাদ দিলে আজ, এখন পর্যন্ত দু’শরিকের বিধায়ক- সংখ্যা ২৪ জন করে৷ অর্থাৎ, মোট ৪৮টি ভোট৷ রাজ্যসভায় একজন প্রার্থীকে জয়ী করতে ন্যূনতম প্রথম পছন্দের ভোট প্রয়োজন এই ৪৮টি ভোটই৷

◾এই ৪৮ ভোট এক বাক্সে আনতে পারলে কং-বাম যৌথভাবে পঞ্চম প্রার্থীকে রাজ্যসভায় পাঠাতে পারে।

◾এটাও মাথায় রাখতে হবে, কম থাকা মাত্র ৬টি ভোট ‘জোগাড়’ করে পঞ্চম আসনও দখল করা তৃণমূলের পক্ষে অসম্ভব কোনও কাজ নয়৷

◾ঠিক এখানেই বড় ভাবে উঠে আসবে পঞ্চম আসনে জোটের প্রার্থী কে হচ্ছেন, সেই বিষয়টি৷ প্রার্থী পছন্দসই না হলে তৃণমূলও পঞ্চম আসনে প্রার্থী দিয়ে বাম-কং শিবিরে ৬টি ভোটের জন্য হানা দিতে পারে৷ এবং সে ক্ষেত্রে তৃণমূল প্রার্থী করতে পারে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ জিতলে ১০০% লাভ, হারলে সরাসরি দলের কোনও ক্ষতি নেই৷ অনেকটা ‘শত্রুকে বাঘ মারতে পাঠানো’-র মতো৷

◾আর এই পরিস্থিতিতে সুকৌশলে চাল দিতে চাইছে কংগ্রেস ৷

◾ইতিমধ্যেই উত্তর প্রদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত এআইসিসি-র সাধারন সম্পাদক হিসাবে ‘অ্যাক্টিভ’ রাজনীতিতে নজর কেড়েছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী৷ সাংগঠনিক দায়িত্বও পালন করছেন৷

◾লোকসভার বিরোধী দলনেতা অধীর চৌধুরি ইতিমধ্যেই বলেছেন, দলের নির্দেশ পেলে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে বাংলা থেকে রাজ্যসভায় পাঠানোর কাজে নামতে তিনি তৈরি৷

◾প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সংসদীয় রাজনীতিতে পা দিতে রাজি হলে জাতীয় রাজনীতির মোড় ঘুরে যেতে পারে৷ প্রদেশ কংগ্রেস যতই গোষ্ঠী- কোন্দলে দীর্ণ হোক, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নামে রাজ্য কংগ্রেসের কোনও অংশই আপত্তি জানানোর সাহস দেখাবে না৷ সেক্ষেত্রে ইয়েচুরিকে সমর্থন করারও প্রশ্ন থাকবেনা৷

◾মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রিয়াঙ্কার নামে তেমন আপত্তি নাও জানাতে পারেন৷ ইয়েচুরি প্রার্থী হলে কং-বাম শিবিরে থাবা বসাতে তৃণমূল যতখানি তৎপর হবে, প্রিয়াঙ্কা প্রার্থী হলে তৃণমূল তেমন না করার সম্ভাবনাই বেশি৷ এক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের দুই কৌঁসুলি, অভিষেক মনু সিংভি এবং কপিল সিবাল উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারেন৷

◾অন্যদিকে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী প্রার্থী না হয়ে জোটের প্রার্থী ইয়েচুরি হলে কংগ্রেস শিবিরে ফাটল ধরানো তৃণমূলের পক্ষে অনেক সহজ৷ তৃণমূল সে চেষ্টা করতেই পারে৷ যতই দলের শৃঙ্খলাবদ্ধ সৈনিক হোন, সিপিএমকে ভোট দিতে অনেক বিধায়কেরই আপত্তি আছে৷ এবং তার ওপর থাকবে তৃণমূলের কিছু ‘প্রস্তাব’৷ ৫-এ-৫ করার এই সুযোগ তৃণমূল নেবেই৷

◾ফলে, কং-বাম জোট যতই অঙ্ক করুক, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী প্রার্থী হোন বা না হোন, কোনওক্রমে ৪৮-এ দাঁড়িয়ে থাকা জোট প্রার্থীর পক্ষে পঞ্চম আসনে জয়ী হওয়ার পথ কুসুমাস্তীর্ণ নয়৷ যদি না সিপিএম বা ইয়েচুরি সাহেব নিজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে সমর্থন প্রার্থনা করেন৷

পঞ্চম আসন নিয়ে বঙ্গে অনেক রাজনীতি অপেক্ষা করছে৷

Related articles

নির্বাচনের মধ্যে ক্রমাগত সক্রিয় ইডি: তলব নুসরৎকে

২০২০ সালের মামলায় নতুন করে তলব প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ নুসরৎ জাহানকে। রেশন সংক্রান্ত জটিলতার মামলায় তলব (summoned) বলেই...

ঘরোয়া আলাপচারিতা থেকে মঞ্চে জনসভা: একই দিনে ভাবনীপুরে উভয় জনসংযোগে মমতা

গোটা রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারের মধ্যেও নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরকে এতটুকু অবহেলিত রাখেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদরা...

৪৮ ঘণ্টা নয়, এবার টানা চার দিন বন্ধ মদের দোকান! কড়া ফরমান আবগারি দফতরের

বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যে মদের কারবার নিয়ন্ত্রণে নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ করল আবগারি দফতর। ভোটের আগে মদের দোকান বন্ধ...

জার্মান সুন্দরীকে নিয়ে বিতর্কে জেরবার! অনুষ্কাকে নিয়েই বৃন্দাবনে শান্তির সন্ধানে কোহলি

অক্ষয় তৃতীয়ার দিন, বৃন্দাবনে(Vrindavan) প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে গেলেন বিরাট কোহলি আর অনুষ্কা শর্মা(Virat Kohli , Anushka Sharma)। আইপিএলের...