ইতিহাসের বাংলা ঘড়ি, ভীম নাগের দোকানে

এ একটা নিতান্তই ঘড়ির গল্প ৷ দেওয়াল ঘড়ি৷ তখন সবে সিপাহী বিদ্রোহ শেষ হয়েছে৷ অস্থির ভারতে জাঁকিয়ে বসেছে ব্রিটিশ সরকার৷ কলকাতায় হাতে গোনা কয়েকটি মিষ্টির দোকানের মধ্যে অন্যতম ভীমনাগ৷ দোকানে হরদম ভিড় নানান সাহেবসুবোর৷ শোনা যায় লর্ড ক্যানিং এর অনুরোধে একসময় ভীম চন্দ্র নাগ নাকি প্রথম লেডিকেনি বানিয়েছিলেন৷ ভীম নাগের তালশাঁস আজও মিষ্টি প্রেমীদের কাছে হ্যামিলনের বাঁশি৷ ভীম নাগের দোকানে মিষ্টির সঙ্গে সঙ্গে আর একটি জিনিশ ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছে৷ একটি দেওয়াল ঘড়ি৷ গল্পটা এরকম, একদিন ভীমনাগের দোকানে এলেন বিখ্যাত ঘড়ি সংস্থা কুক অ্যান্ড কেলভির বড়কর্তা৷ সিপাহী বিদ্রোহের পরের বছর অর্থাৎ আঠারশ আটান্ন সালে রবার্ট টমাস কুক আর চার্লস কেলভি নামে এই কোম্পানি শুরু করেন৷ কলকাতার ওল্ড কোর্ট হাউস স্ট্রিটে তাদের শো রুম ছিল৷ কুক অ্যান্ড কেলভির বড় কর্তার তো ভীমনাগের মিষ্টি খেয়ে বাহ্যজ্ঞান লোপ পাওয়ার যোগার৷ প্রশংসা-পর্ব শেষ করে ঘড়ি দেখতে গিয়ে দেখেন সাহেব ঘড়ি আনতে ভুলে গেছেন সেদিন৷ ওমা!দোকানেও যে ঘড়ি নেই৷ লজ্জ্বায় পড়ে গেলেন ভীম নাগ৷ সাহেব বললেন তিনি একটি ঘড়ি উপহার দেবেন৷ ভীমনাগ তখন সাহেব কে বললেন তার কর্মচারীরা কেউই ইংরেজি জানে না৷ ঘড়ি যদি দিতেই হয়, তাহলে যেন তার ডায়াল বাংলায় লেখা থাকে৷ সাহেব বললেন তথাস্তু৷ সাহেবের কথা অনুযায়ী লন্ডন থেকে বাংলা হরফে লেখা ডায়াল এল কলকাতায়৷ওই ঘড়ির মাঝখানে কোম্পানির নামটাও বাংলাতে লেখা আছে৷নীচে লেখা লন্ডন৷ সেই থেকে আজ, কুক অ্যান্ড কেলভির বিরল ঘড়ি শোভা পাচ্ছে ভীমনাগের দোকানে৷

আরও পড়ুন-নীল নদী, সবুজ বন, হলুদ রোদ…সাতকোশিয়া